রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারী নিহত শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বলের ঘনিষ্ঠ মিলন হোসাইন নামের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কমান্ডো হামলায় নিহত শফিকুল দীর্ঘদিন আশুলিয়ার ভাদাইলে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করেছে। ওই চাকরি পেতে মিলনই তাকে সহায়তা করেছিলেন বলে জানা গেছে।
গ্রেফতার হওয়া মিলন ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) পাশে পবনারটেক এলাকায় পিয়ার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক। গত শনিবার ঢাকার আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপর রবিবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিলন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বেতকিবাড়ি গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে। তিনি পিয়ার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে যোগ দেওয়ার আগে শিক্ষকতা করেছেন পাশের এলাকা ভাদাইলে; মাদারি মাদবর মেমোরিয়াল একাডেমিতে। পুলিশের ভাষ্য, শনিবার রাতে শিল্পাঞ্চলের ভাদাইল এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পিয়ার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদারি মাদবর মেমোরিয়াল একাডেমির প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, মিলন হোসাইন ২০১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ওই বিদ্যালয়ে যোগ দেন। মিলনের মাধ্যমে ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে ওই বিদ্যালয়ে যোগ দেয় শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল। এর আগে দুজনে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় ন্যাশনাল ইনিশিয়াল কিন্ডারগার্টেন স্কুলে চাকরি করতেন। পারিবারিক সমস্যার অজুহাতে শফিকুল গত বছরের ১০ ডিসেম্বর চাকরি ছেড়ে চলে যায়। আর মিলন হোসাইন ২০১৪ সালের মার্চ মাসে চাকরি ছেড়ে পাশের পবনারটেকে পিয়ার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতার চাকরি নেন।
মাদারি মাদবর মেমোরিয়াল একাডেমিতে ইলিয়াস আলী ও নূর মোহাম্মদ নামের আরো দুই শিক্ষক ছিলেন। এ দুজনের সঙ্গে মিলন ও শফিকুলের ঘনিষ্ঠতা ছিল। গত বছর ডিসেম্বর মাসে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নূর মোহাম্মদকে আটক করে। এর আগেই ইলিয়াস চাকরি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ইসলাম মোল্লা বলেন, শনিবার মিলনকে আটকের পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রবিবার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আশুলিয়া থানার ওসি মহসিনুল কাদির বলেন, মিলনের বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শফিকুলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা স্বীকার করেছেন।


