বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

‘সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার পেছনে এরদোগানের হাত ছিল’

fethullah_gülen_19421_1468828206তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার পেছনে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগানের হাত ছিল বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী তুরস্কের ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লা গুলেন। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

প্রেসিডেন্ট এরদোগান বৈপ্লবিক অভ্যুত্থান মঞ্চস্থ করেছিলেন মন্তব্য করে গুলেন বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আমাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করেছেন। এনিয়ে সত্যিকার অর্থে আমি মোটেও চিন্তিত না। যুক্তরাষ্ট্র যদি আমাকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে কোনো আদেশ দেয়, তবে তা মেনে নেব।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাতে তুরস্কের ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে দেশটির সেনাবাহিনীর ক্ষুদ্র অংশ। তারা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেশের ক্ষমতা দখলের দাবিও করেছিল। সারাদেশে কারফিউ ঘোষণা করা হয়।

কিন্তু জনগণ গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সেনা সদস্যদের অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করে দেয়। এরদোগান সরকারের পক্ষে অবস্থান নেয় দেশটির জনগণ। তারা সেনা সদস্যদের পিটিয়ে পুলিশে তুলে দেয়। সেনাদের ট্যাঙ্ক দখলে নিয়ে তার মাথায় দেশের পতাকা লাগিয়ে উল্লাস করে জনতা।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমের দেয়া তথ্য মতে, ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টায় নিহত হয়েছেন ২৬৫ জন। এর মধ্যে অভ্যুত্থানপন্থী বিদ্রোহী রয়েছেন ১০৪ জন। আর অভ্যুত্থান প্রতিরোধ করতে গিয়ে সামরিক-বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন ১৬১ জন।

এরপরই সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টার পেছনে গুলেনের হাত রয়েছে বলে দাবি করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী। এরপর তারা গুলেনকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানান। তারা আমেরিকাকে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাবে বলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পেলে আমেরিকা বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে।

গুলেন বর্তমানে পেনসিলভানিয়ায় অবস্থান করছেন। সেখানে এক অনুবাদকের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কাছে তুরস্কের সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টার বিষয়ে কথা বলেন।

প্রেসিডেন্ট এরদোগান এবং প্রধানমন্ত্রী বিনালির সমালোচনা করে তারাই এর সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন গুলেন।

আরও পড়ুন