বন্দুকধারীর গুলিতে পাঁচ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই আবারো যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে পুলিশ নিহতের ঘটনা ঘটেছে। লুইজিয়ানার ব্যাটন রুজে রোববার এক বন্দুকধারীর গুলিতে তিন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন।
পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে বন্দুকধারী হামলাকারীও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাটন রুজের মেয়র কিপ হোল্ডেন।
কৃষ্ণাঙ্গ ওই হামলাকারী সাবেক মেরিন সেনা বলে খবর দিয়েছে রয়টার্স। অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, তার নাম গেভিন লং, বয়স ২৯ বছর।
লং ছাড়া হামলার ঘটনায় আর কেউ জড়িত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশের সুপারিনটেন্ডেন্ট কর্নেল মাইক এডমনসন।
নিহত পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে দুইজন বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং একজন শেরিফের ডেপুটি। অন্য এক ডেপুটির অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
সেখানকার মেয়রের ভাষ্য, ‘চোরাগোপ্তা’ এ হামলায় বন্দুকধারী অ্যাসল্ট রাইফেল দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে ওপর গুলি করে।
কয়েকদিন আগে এ শহরে পুলিশের গুলিতে এক কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হওয়ার পর তুমুল বিক্ষোভের মধ্যে পুলিশের উপর এ আক্রমণ হল। এর আগে ডালাসে এক প্রতিবাদ মিছিল প্রস্তুতির সময় বন্দুকধারীর গুলিতে পাঁচ পুলিশ সদস্য নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটাতে দুই কৃষ্ণাঙ্গ পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর সেখানে পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের বিরুদ্ধে কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ আছে। সর্বশেষ দুটি হত্যাকাণ্ডের পর এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ব্যাটন রুজে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ঘটনার পর হোয়াইট হাউজ থেকে এক টেলিভিশন ভাষণে ওবামা বলেন, মার্কিন নাগরিকদের এখন এ ধরনের সমস্যা মোকাবেলায় আরও ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।
“জাতি হিসেবে আমাদের উঁচু গলায় বলা উচিত যে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর হামলার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।”
নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শোক জানানোর পাশাপাশি ওবামা আফ্রিকান-আমেরিকান নাগরিকদের বিষয়ে পুলিশের ‘নীতি’ পর্যালোচনা করারও আহ্বান জানান।


