বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মোদির আমন্ত্রণে ভারত সফরে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা

PM-Modiভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ আমন্ত্রণে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা  নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরের সার্বিক প্রস্তুতি এখনও সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে দু’দেশের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো কাজ করছে। আশা করা যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে যেসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল, সেগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া গুরুত্ব পাবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩ দিনের সরকারি সফরে ১৪ অক্টোবর ভারত সফরে যেতে পারেন। ব্রিকস ব্লকের শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দিতে তিনি এ সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ভারতের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ইতিমধ্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ব্রিকস বিশ্বের পাঁচটি প্রভাবশালী দেশের একটি জোট। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত ‘ব্রিকস’ এ অঞ্চলের বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কার নিয়ে কাজ করছে।

১৫ ও ১৬ অক্টোবর ভারতের পর্যটন নগরী গোয়ায় অষ্টম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও আয়োজক ভারতের বিশেষ আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। শেখ হাসিনাকে বঙ্গোপসাগরীয় জোট বিমসটেকের একজন নেতা হিসেবে এ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বর্তমান বিশ্বে ব্রিকস একটি প্রভাবশালী জোট যা বিশ্ব জনসংখ্যার ৪২ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। এ জোটের দেশগুলোর মোট জিডিপির পরিমাণ ১৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের একটি অধিবেশনে তিনি বক্তব্য রাখবেন। পাশাপাশি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট মাইকেল টিমার, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার সঙ্গে পৃথকভাবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, গোয়ায় ব্রিকস সম্মেলনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন। বিশেষ করে ভারতের প্রতিশ্র“ত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে বিশদ আলোচনা করতে পারেন। পাশাপাশি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি অধিক গুরুত্ব পেতে পারে। গুলশান ও শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের এ বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তাসংক্রান্ত একজন যুগ্ম সচিব সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। ভবিষ্যতে জঙ্গিবাদের অভিন্ন উদ্বেগ মোকাবেলায় দু’দেশ কিভাবে সহযোগিতা করতে পারে সেসব বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। এছাড়াও বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কানেকটিভিটিসহ বিভিন্ন খাতে দু’প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সহযোগিতার নানা দিক আলোচনায় উঠে আসতে পারে।

আরও পড়ুন