প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২১ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বেনাপোল ও পেট্রাপোল স্থল বন্দরে সমন্বিত চেকপোস্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কলকাতা থেকে এ ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল ও পেট্রাপোলে বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারতীয় অংশে অর্থাৎ পেট্রাপোলে অনেক অবকাঠামো সুবিধা নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ অবশ্য আগেই এসব অবকাঠামো নির্মাণ করেছিল। তবে বাংলাদেশ এবার ভারতের নতুন অবকাঠামো সুবিধার সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব সীমান্ত অবকাঠামো সুবিধা উদ্বোধন করবেন। এ ব্যাপারে প্রস্তুতির লক্ষ্যে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর দফতরে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সার্বিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় গণভবনে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লিতে এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কলকাতায় থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেবেন। বেনাপোল ও পেট্রাপোলের ওই সময়ে অবস্থা দেখানোর লক্ষ্যে সেখানেও সরাসরি ভিডিও সংযোগ থাকবে।
ভারত পেট্রাপোল সীমান্তে ‘ইন্ট্রিগ্রেটেড চেক পোস্ট’ (আইসিপি) নামে দু’দেশের স্থল বাণিজ্যের সুবিধা বাড়াতে একই কমপ্লেক্সে সব ধরনের কাজ সম্পাদনের সুবিধা সৃষ্টি করেছে। আইসিপির আওতায় ভারত নিজ দেশের ভূখণ্ডে ওয়্যার হাউস, ইয়ার্ড, প্রশাসনিক ভবন, ক্যান্টিন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। আর বাংলাদেশ ভারতের নবনির্মিত আইসিপি পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেছে। এসব সুবিধা দুই প্রধানমন্ত্রী একযোগে উদ্বোধন করবেন।
জানতে চাইলে বেনাপোল স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক নিতাই চন্দ্র সেন সোমবার বলেন, ভারত পেট্রাপোলে যেসব অবকাঠামো সুবিধা নির্মাণ করেছে, সেগুলো বাংলাদেশ অনেক আগেই বেনাপোলে নির্মাণ করেছে। তবে ভারত পরে এসব অবকাঠামো তৈরি করায় তাদের অবকাঠামোগুলো আধুনিক। আমরা সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেছি। বেনাপোলে বাংলাদেশের ৩৮ হাজার টন পণ্যের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ওয়্যার হাউস রয়েছে।
বেনাপোল ও পেট্রাপোলে আমদানি-রফতানির সুবিধা নিশ্চিত করার জন্যে অবকাঠামো সুবিধার দাবি দু’দেশের ব্যবসায়ীরা করে আসছিলেন। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সোমবার যুগান্তরকে জানান, বেনাপোল ও পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি-রফতানি হয়। বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন ৩০০ ট্রাক ভর্তি পণ্য ভারতে রফতানি হয়। এসব ট্রাকে বাংলাদেশ পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, সাবান, তৈজষপত্র রফতানি করে। অন্যদিকে, ভারত থেকে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ ট্রাক ভর্তি পণ্য বাংলাদেশে আমদানি হয়। এসব ট্রাকে মেশিনারি, রাসায়নিক পণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যসহ অসংখ্য পণ্য আমদানি হয়।
বেনাপোলে ১২টি বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা রয়েছে। এসব ব্যাংকের শাখা থেকে টাকা তুলে স্থলবন্দরে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকে আমদানিকারকদের শুল্কায়নের টাকা জমা দিতে হয়। এ সময় পথে অনেক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ কারণে স্থলবন্দরে ব্যাংকগুলোর শাখা স্থানান্তর করা গেলে এ সমস্যা দূর করা সম্ভব। এছাড়াও, পণ্যের ওয়্যার হাউসের ভাড়া পরিশোধ করতে হয় বন্দরের জনতা ব্যাংকে। এসব কারণে ভোগান্তি এখনও রয়ে গেছে।


