বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

এরশাদ-রওশনের বিয়ের পর তোলা যে ছবি ফেসবুকে ‘ভাইরাল’

Ershad-Rawshan-Marriage Photoবাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও তার স্ত্রী রওশন এরশাদের বিবাহ জীবনের প্রথমদিকের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ছবিটি কিভাবে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ল তা জানা যায়নি।

এরশাদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি কোচবিহার জেলার দিনহাটায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রংপুরের কারমাইকেল কলেজে শিক্ষাগ্রহণ করেন এবং ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

এরপর ১৯৫৬ সালে রওশনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই ছবিটি বিয়ের পরপর তোলা।

বর্তমানে এরশাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন এবং রওশন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নিজের লেখা ‘আমার কর্ম আমার জীবন’ শীর্ষক আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে এমএ পরীক্ষার সময় রওশনকে বিয়ের প্রস্তাব পান তিনি। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে রওশন দ্বিতীয়। বিয়ের পর এরশাদ চলে যান পাকিস্তানের করাচীতে। সেখানেই চাকরি করতেন তিনি। মাত্র তিন দিনের ছুটিতে এসে রওশনকে বিয়ে করেন এরশাদ। বইতে সাবেক সেনা শাসক এরশাদ লিখেছেন, বিয়ের এক বছর স্ত্রীকে কাছে না পাওয়ায় পুরো সময় কেটেছে চরম বিরক্তে। বাবার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন রওশন। তাই চিঠি লেখা ছাড়া কোন পথ ছিল না। প্রতিদিন স্ত্রীকে একটি করে চিঠি লিখতাম। হাজার হাজার চিঠি লিখেছি তাকে। বইতে এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, একটি চিঠি পোস্ট করার পর উত্তরের অপেক্ষায় থাকতাম। কখন উত্তর আসবে। রওশনকে আদর করে এরশাদ ডাকতেন ডেইজী বলে।

স্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে এরশাদ সম্বোধন করে বলতেন, ‘হৃদয়ের রাণী, ওগো মোর জীবন স্পন্ধন, ওগো একমুঠো রজনীগন্ধা, খুশি বউ, খুশি পাগলি, সোনাবউ, খু-খু বউ, ছোট্ট বউ, নটি গার্ল (দুষ্টু মেয়ে), মানস প্রতীমা, জীবন প্রদীপ, প্রাণ প্রতীমাসহ আরও অনেক কিছুই।

স্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে বিদায় নিতেন নানা ভাষায়। আবেগময় নানা শব্দ চয়ন করতেন চিঠিতে। প্রেমিক এরশাদ বলে কথা। চিঠির শেষে তিনি লিখতেন,‘ইতি তোমার পেয়ারা, বিরহী, পাগল সাথী, এক অখ্যাত কবি, এক জাদুকর, প্রেম পুজারি, যে তোমাকে শুধু ব্যথাই দিল’ প্রভৃতি।

এরশাদ বলেন, চাকরি জীবনে স্ত্রীকে প্রতিদিন চিঠি লিখতাম। হাজার হাজার চিঠি লিখেছি রওশনকে। এক সময় আমার সব চিঠিই স্ত্রী ফেরত দিয়েছেন সংরক্ষণের জন্য। আমি সব বাঁধাই করে সংগ্রহে রেখেছি। ইচ্ছে আছে চিঠিগুলো নিয়ে বই বের করার। তিনি বলেন, আমার চিঠি পেয়ে স্ত্রী আবেগে আপ্লুত হয়ে যেতেন। আমাকে যে যাই বলুক মানুষকে ভালবাসী বলেই স্ত্রীর কাছে সুন্দর করে টিঠি লিখতে পেরেছি। গ্রন্থটি লিখতে পাঁচ বছর সময় লেগেছে জানিয়ে এরশাদ বলেন, বই লেখার জন্য আমি আলাদা বাড়ি ভাড়া করেছিলাম। আমার বাড়িতে লেখার পরিবেশ নেই। ছেলে এরিখ আমার বাড়ি প্রেসিডেন্ট পার্কের নাম দিয়েছে ‘সুপারিশ ভবন’। যতক্ষণ বাড়িতে থাকি মানুষের ভিড়। সবার আবদার একটু সুপারিশ করার।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *