বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

হামলার পর এই ছবিটি সবাইকে নতুন করে কাঁদাচ্ছে

France Nice Truck Attackআলোকচিত্রীদের ক্যামেরাবন্দী শত শত ছবি প্রতিদিন পাঠকের কাছে পৌঁছে যায়। তবে এর মধ্যে কিছু কিছু ছবি ভীষণ প্রতীকী হয়ে ওঠে। এমনই একটি প্রতীকী ছবি হয়ে উঠেছে ফ্রান্সের নিসে হামলায় নিহত ব্যক্তিদের পাশে পুতুল পড়ে থাকার ছবিটি।

রয়টার্সে প্রকাশিত ওই ছবিতে দেখা যায়, রাস্তার মাঝখানে পড়ে আছে একটি নিথর দেহ। সোনালি ধাতব চাদরে সেটি ঢাকা। পাশেই পড়ে আছে গোলাপি পোশাক পরা একটি পুতুল। দুটোই প্রাণহীন, নিথর।

এই ব্যক্তির মতো শত শত মানুষ ১৪ জুলাই রাতে নিস নগরে বাস্তিল দিবসের আনন্দে শামিল হয়েছিল। মেতেছিল আনন্দে। রাতের আকাশজুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে উঠছিল আতশবাজির অগ্নিফুল। ঠিক এ সময় তেড়ে এল ঘাতক ট্রাক। মুহূর্তেই নিয়ে নিল ৮৪ জনের প্রাণ। আনন্দ উৎসব পরিণত হলো মৃত্যু, আতঙ্ক আর শোকের রাতে।

ছবি যে হাজার কথা বলে, আরও একবার প্রমাণিত হলো ছবিটির মাধ্যমে। একটু আগেও যেখানে প্রাণের প্রাচুর্য ছিল, মুহূর্তেই সেটা হয়ে গেল আতঙ্কের। আনন্দ ঢেকে দিল বেদনার চাদর। আনন্দময় স্মৃতির বদলে ঠাঁই নিল স্বজন হারানোর বেদনাময় স্মৃতি। এ সবকিছুই যেন উঠে এসেছে এই ছবিতে।

ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রয়টার্সের আলোকচিত্রী এরিক গেইলার্দ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিসে নিজের বাসা থেকে দ্রুত বের হন তিনি। মনে ভয় আর আতঙ্ক। কী হয়েছে, কীভাবে হয়েছে—তখনো জানেন না তিনি। এ ব্যাপারে কোনো ধারণাই তাঁর ছিল না। এমনকি লাশের পাশে পুতুলের পড়ে থাকার দৃশ্যও তাঁর চোখে পড়েনি।

নিসে জন্ম নেওয়া, তবে কম্বোডিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছেলেবেলা কাটানো এই আলোকচিত্রী ওই দিনের ঘটনা সম্পর্কে বলছিলেন, ‘লোকের দৌড়াদৌড়ির মধ্যে আমি আমার মোটরসাইকেল নিয়ে এগোতে পারছিলাম না। তখন রাস্তার পাশে মোটরসাইকেলটি পার্ক করতে গেলাম। মোটরসাইকেলের পাশেই একটি মরদেহ পড়ে ছিল। মোটরসাইকেলের লুকিং গ্লাস দিয়ে দেখলাম, বহু দেহ পড়ে আছে। কিছু কিছু দেহ রাস্তার পাশের রেস্তোরাঁর টেবিলের কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা। চারপাশে তখন চরম বিশৃঙ্খলা। কাজ করাটা কঠিন হয়ে পড়ছিল।’

চেক ও রোমানিয়ার বিপ্লব, প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ, বসনিয়া-লেবানন-ইসরায়েলের অস্থিরতাসহ বহু ঘটনার ছবি তুলেছেন ৫৮ বছর বয়সী এই আলোকচিত্রী। এই ছবির বিষয়ে তিনি বললেন, ‘মরদেহটি কোনো শিশুর, আকার দেখে আমার তেমনটি মনে হয়নি। তবে পুতুলটা কেন সেখানে, আমি জানি না। হয়তো এমন হতে পারে, পুতুলের মালিক শিশুটি মা-বাবার সঙ্গে এখানে এসেছিল এবং মা-বাবার কেউ একজন এখানে মরে পড়ে আছে। কিংবা অন্য কেউ পুতুলটি এখানে ফেলে গেছে! যেকোনো কিছু হতে পারে। তবে আমি সেটা জানি না।’

ছবিটি যারই হোক না কেন, এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাপক সাড়া ফেলে পাঠকের মধ্যে। ছবিটি এখন নিস হামলার প্রতীক।

আরও পড়ুন