বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

সরকার মানুষকে বোকা বানাচ্ছে: শরিকদল জাপা

kader--gm“মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে না ফেলে এর উৎস খুঁজে বের করে চিকিৎসা করতে হয়। জঙ্গীবাদ নির্মূল করতে হলে এর উৎস খুঁজে বের করা প্রয়োজন। অফিস আদালত সরিয়ে নেয়াসহ আরও কিছু এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে কিছু মানুষকে বোকা বানানো ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে না।”

মন্তব্যগুলো করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শরিক দল জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

গুলশানে আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পর ওই এলাকায় যত দলীয় কার্যালয় রয়েছে তা সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। ওই এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়, বনানীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়সহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের ছোট ছোট একাধিক কার্যালয় আছে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলে এই এলাকা থেকে এসব রাজনৈতিক কার্যালয় সরিয়ে নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, আবাসিক এলাকায় অফিস আদালত রাখার নিয়ম নেই ঠিক আছে। নিয়ম অনুযায়ী কাজ করলে আপত্তি থাকার কথাও নয়। কিন্তু যখন এ অফিসগুলো এখানে চালু করা হয় তখন কেন সরকার বাধা দিল না। বড় দুর্ঘটনা ঘটার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তখন নিয়ম খোঁজা হয়। তাহলে সরকারের দূরদর্শিতা কোথায়? একটা দেশের সরকারের দূরদর্শিতা না থাকলে দেশের মানুষের ভোগান্তি যেমন বাড়ে তেমনি সরকারের ওপর আস্থা কমে যায়।

আমাদের পার্টি অফিস থেকে কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কখনো হয়নি, হবেও না। কিছু একটা করা দরকার, তাই এসব। বিমানবন্দরের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। কোথাও যেতে হলে পুরো এলাকা ঘুরে তারপর যেতে হয়। এভাবে সাধারণ মানুষকে ঝামেলায় ফেলে কি বোঝাতে চাচ্ছে সরকার আমার বোধগম্য নয়।

সরকারের সিদ্ধান্তে বাধা সৃষ্টি করতে চান না বলে জিএম কাদের বলেন, যদি দলীয় কার্যালয় সরাতেই হয়, আমরা সরাবো। এর বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলনে যাব না।

রাজনৈতিক কার্যালয় উঠিয়ে দেয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক পাড়ায় সকল সভা, সমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মসূচিও নিষিদ্ধ হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।

এদিকে কূটনৈতিক এলাকার সীমানা নির্ধারণ করে ওই এলাকাকে নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে নিয়ে  সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার।

দেশের স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে চিহ্নিত গুলশান বনানী এলাকার নিরাপত্তা কিভাবে নিশ্চিত করা যায় সে বিষয়ে সরকার বিশেষভাবে তৎপর। এরই ধারাবাহিকতায় গুলশান-বনানী তথা কূটনৈতিক পাড়ায় রাজনৈতিক কার্যালয় না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন