বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

বাবুলের চাকরি আছে, অফিস না করলে ব্যবস্থা: আইজিপি

SP-Babulস্ত্রী মিতু হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানান নাটকীয়তার মধ্যে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের চাকরিতে ফেরা না ফেরা নিয়ে রহস্যের জট খুলেছেন পুলিশের মহাপরির্দশক এ কে এম শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, এসপি বাবুল এখনো চাকরিতে বহাল রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর নাসিরাবাদে সিএমপির অফিসার্স মেসের উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা জানান।

আইজিপি বলেন, সে (বাবুল আক্তার) চাকরিতে বহাল আছে। তবে সে অফিস করেনা। আমাদের সাথে যোগাযোগ করছেনা। কোনো অফিসারের সাথে যোগাযোগ রাখছে না। সে বলছে সে ডিপ্রেসড, চাকরি করার মানসিক অবস্থায় নেই। সে তো আমাদের সাথে কথা বলে সদর দপ্তরে্ও যাচ্ছে না।

এভাবে ছুটিতে না থাকার পরও সে যদি অফিস না করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান আইজপি।

গত ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের জিইসি এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা। হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন।

ঘটনার পর গত ২৪ জুন শুক্রবার রাতে বাবুল আক্তারকে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে মেরাদিয়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে আসেন মতিঝিলের উপ-কমিশনার আনোয়ার হোসেন। এরপর তাকে রাজধানী ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। সারারাত সেখানেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ১৫ ঘণ্টা পর পরদিন বিকাল ৪টার দিকে তিনি বাসায় ফেরেন। এই ১৫ ঘণ্টায় নানা ধরনের খবর ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার পদের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পর তিনজন ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা বাবুলকে ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সে সময়ই তাঁর পদত্যাগপত্রে সই নেওয়া হয়। তবে পদত্যাগপত্রটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ সদর দপ্তরে জমা পড়েনি। জিজ্ঞাসাবাদের সময় মাহমুদা হত্যায় বাবুলের জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ তাঁদের হাতে রয়েছে দাবি করে তিন ডিআইজি বাবুলকে দুটি বিকল্প দেন। বাবুলকে বলা হয়, তাঁকে বাহিনী থেকে সরে যেতে হবে, নইলে তাঁকে মাহমুদা হত্যা মামলায় আসামি হতে হবে। বাবুল বাহিনী থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন।

স্ত্রী হত্যার পর জিজ্ঞাসাবাদের নাটকীয়তায় পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়ে উভয়সংকটে পড়েন পুলিশের নীতিনির্ধারকেরা। কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করে, বাবুল যদি অপরাধী হন, তাহলে প্রচলিত আইনে তাঁর সাজা হওয়া উচিত। আরেকটি অংশ মনে করে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাবুল সন্দেহের ঊর্ধ্বে নন। বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষায় তাঁর সরে যাওয়া উচিত।

বাবুল আক্তারের শ্বশুর সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন এখনো মনে করেন, বাবুল স্ত্রী হত্যায় জড়িত থাকতে পারেন না।

গত ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের জিইসি এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা। ঘটনার পর পুলিশ জানায়, জঙ্গি দমনে বাবুল আক্তারের সাহসী ভূমিকা ছিল। এ কারণে জঙ্গিরা তার স্ত্রীকে খুন করে থাকতে পারে। হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আক্তার অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন। পরে পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দু’জনকে গ্রেফতার করে। কিন্তু তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সিএমপির সঙ্গে তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এক সপ্তাহ পর আইজির নির্দেশে ঘটনা তদন্তে পাঁচটি সমন্বিত টিম গঠন করা হয়।

আরও পড়ুন