জঙ্গি শফিউলকে আশ্রয়দানকারী বাড়ির মালিক মো. আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শুক্রবার মধ্যরাতে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পান্থাপাড়া এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৩র একটি দল।
র্যাবের পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, উত্তরবঙ্গে চাঞ্চল্যকর চারটি হত্যার সঙ্গে জড়িত জেএমবি সদস্য শফিউল ওরফে আবু মুকাতিল। তাকে ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত আশ্রয় দেন আনোয়ার।
কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের হামলার ঘটনায় আটক হন শফিউল ইসলাম।
বয়স মোটে ২০ বছর। এর মধ্যে নৃশংস জঙ্গিপনায় হাত পাকিয়েছে শফিউল ইসলাম ওরফে ডন ওরফে সোহান। অন্তত তিনটি সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলায় অংশ নিয়ে একজন হিন্দু পুরোহিত, একজন খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণকারী ও দুই পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সে। অবশ্য আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীতে তার বিরুদ্ধে আরও একটি হত্যা মামলা নথিভুক্ত রয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে শফিউল বলেছে, সে তার ওস্তাদের অ্যাসাইনমেন্টে শোলাকিয়ায় হামলা চালায়। তবে কে তার ওস্তাদ তা এখনও অজানা রয়েছে।
সে একটি মাদ্রাসার ছাত্র আর বাড়ি দিনাজপুর জেলা ঘোড়াঘাটে। আর এরই মধ্যে পুলিশ জেনেছে শোলাকিয়া হামলার আগেই পঞ্চগড়ে পুরোহিত যজ্ঞেশ্বরকে আর কুড়িগ্রামে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী হোসেন আলীকে গলাকেটে হত্যা করেছে এই তরুণ জঙ্গি।
এত অল্প বয়সে কেনো এমন জঙ্গি হয়ে ওঠা তা এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা। অনেকের কাছে বিষয়টি অবাক ঠেকছে, কেন আর কার প্ররোচনায় শফিউল জঙ্গি হয়েছে। তার মাদ্রাসা কানেকশন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলেও পুলিশ পরিবারকেও দায়ী করছে।
সন্দেহভাজন জঙ্গি শফিউল (২০) পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায় হত্যায় সরাসরি জড়িত। এ মামলায় আদালতে দেওয়া অভিযোগপত্রে শফিউলের নাম উল্লেখ রয়েছে।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি শ্রীশ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠে গিয়ে যজ্ঞেশ্বর চন্দ্র রায়কে (৫০) গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ মামলায় অভিযুক্ত ১০ জনের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। শোলাকিয়ায় হামলার ঘটনার পর পুলিশ জানতে পারে আটক শফিউল আলম পলাতক ৬ জনের একজন। পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার যজ্ঞেশ্বর হত্যায় শফিউলের জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, ‘পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে খুঁজছিল।’
যজ্ঞেশ্বর হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, মোটরসাইকেলে করে যে তিনজন মঠে আসে, তাদের মধ্যে শফিউলও ছিলেন। শফিউল আগের দিন রাতে এসে স্থানীয় জঙ্গি ও ওই মামলার পলাতক আসামি দেবীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব দেবীডুবা গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে মো. রানার বাড়িতে রাত যাপন করেন। এই বাড়ি থেকেই মোটরবাইকে করে মঠে যান।


