মনজুর আহমেদ বড়ভূঁইয়া, শিলচর (আসাম) থেকে।
বিধানসভায় বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা দাবি ওঠার পরদিনই আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল জানালেন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রহরার দায়িত্ব থেকে বিএসএফ প্রত্যাহার করে সেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়োগের কথা। তিনি বললেন, বিএসএফ দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা বিধান করা যাচ্ছে না, তাই সেনাবাহিনী নিয়োগের জন্য আমি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি।
বিজেপির গঠিত সরকারের এই মুখ্যমন্ত্রী শনিবার সন্ধ্যায় আসামের রাজধানী গুয়াহাটিতে সীমান্ত চেতা মঞ্চ নামে বিজেপির এক সংগঠনের সম্মেলনে এ কথা বলেন।
আসামে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মানুষ দিনে দিনে বাড়ছে দাবি করে সর্বানন্দ বলেন, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাজ্য সরকার আগের কংগ্রেস সরকারের মতো নমনীয় নয়। আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। আসামে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের কাজ চলছে। এই কাজ শেষ হলেই বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ (সিল) করে দেওয়া হবে। এছাড়া বিএসএফের পরিবর্তে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ নিয়ে বরাবরই কট্টর অবস্থানে থাকা বিজেপির এই রাজ্য সভাপতি ও মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আসামের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের ৭০ কিলোমিটার নদীর তীর ধরে সীমান্ত রয়েছে। আসামের ধুবড়ি, মানকাচর (কুড়িগ্রামের ওপারে) এবং করিমগঞ্জের নদী সীমান্তগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তিতে বেড়া দেওয়ার কাজ চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষ কংগ্রেসের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। তারা পরিবর্তন ও ভালো সরকার চেয়েছিলেন। এটা একটা বিশাল বিজয়। মানুষ আমাদের জয়ের সমীকরণ মেনে নিয়েছেন। আসামের মানুষ এটাই চেয়েছিলেন। আমাদের মূল লক্ষ্য সত্যিকারের ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া; তারা হিন্দু অথবা মুসলিম যাই হোক না কেন।
সর্বানন্দ সনোয়াল বলেন, অনুপ্রবেশ, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বন্ধ করার অঙ্গীকার বিজেপির নির্বাচনি প্রচারণায় উল্লেখ ছিল। তাই এর বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের।
সর্বানন্দ সনোয়াল বলেন, আমরা বৃহত্তর আসামীয় সমাজের স্বার্থ সংরক্ষণ করবো। এদের মধ্যে আসামিজ, বিহারি মাওয়াড়ি, বাঙালি, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ… সবাই রয়েছেন। আমরা একযোগে কাজ করবো, একসঙ্গে থাকবো এবং একসঙ্গে লড়াই করবো।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আসাম বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার দিলীপ পাল বলেন, সীমান্ত হচ্ছে ভারতমাতার আঁচল। কংগ্রেস সরকার সেই সীমান্ত সুরক্ষায় দীর্ঘদিন কোনো জোর দেয়নি। সীমান্তের ওপার থেকে বাংলাদেশিরা এসে করিমগঞ্জসহ কিছু কিছু এলাকায় ভারতীয়দেরই সংখ্যালঘু করেছে।
বিজেপির এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) রাজেন্দ্র প্রসাদ, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-র উত্তরপূর্ব ভারতীয় শাখার প্রচারক উল্লাস কুলকানি প্রমুখ।
সীমান্ত চেতা মঞ্চের দুইদিনের এই প্রথম রাজ্য অধিবেশন রবিবার শেষ হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এরআগের দিন শুক্রবার আসামের বিধানসভায় কংগ্রেস থেকে নির্বাচিত এমএলএ (বিধায়ক) আব্দুল খালেক দাবি করেছিলেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করুক নরেন্দ্র মোদি।


