বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে ফের শিশুহত্যা

Haoa machineগেল বছর খুলনার শিশু রাকিবের পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যার ঘটনা তোলপাড় করেছিল সারাদেশে। এ ঘটনায় ২ জনের ফাঁসির আদেশও দিয়েছেন আদালত। বছর কাটতে না কাটতেই এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ফের ঘটেছে। এবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার যাত্রামুড়া এলাকার একটি সুতার ফ্যাক্টরিতে সহকর্মীরা সাগর বর্মন (১০) নামের এক শিশুর পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়েছে। এতে অসুস্থ হয়ে মারা গেছে সাগর।

রোববার উপজেলার যাত্রমোড়া এলাকায় জবেদা টেক্সটাইল অ্যান্ড স্পিনিং ফ্যাক্টরিতে এ ঘটনা ঘটে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাকারিয়া জানান, নিহত সাগর বর্মণ ওই কারখানায় শ্রমিকের কাজ করত। তাৎক্ষণিকভাবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

তিনি বলেন, দুপুর ২টার দিকে কারখানার অন্য শ্রমিকরা মিলের একটি পাম্প থেকে সাগরের মলদ্বার দিয়ে বাতাস দিলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে বিকাল ৪টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।

সাগরের বাবা রতন বর্মন একই ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। তিনি জানান, সুতার ফ্যাক্টরিতে পরিষ্কার করার জন্য এক ধরনের অটোমেশিন থাকে। সাগরের সহকর্মীরা তার সঙ্গে ‘দুষ্টামিচ্ছলে’ এই মেশিন দিয়েই পায়ুপথে হাওয়া দেন। এতে তার পেট ফুলে গেলে তারা তাকে ছেড়ে দেন। সাগর অসুস্থ হয়ে গেলে আশপাশের লোকজনের মাধ্যমে রতন বর্মন খবর পান।

এরপর সাগরকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বেলা ৩টার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। ঢামেকে আনার পর সাড়ে ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাগরকে মৃত ঘোষণা করেন।

মেডিকেল অফিসার আমজাদ হোসেন জানান, পায়ুপথে বাতাস প্রবশে করানোর কারণে শিশুটির শ্বাস প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এতে হার্ট অ্যাটাক হয়েই সে মারা যায়।

সাগরের বাবা রতন বর্মন বলেন, ‘সংসারের অভাব অনটনের কারণে ওই একই ফ্যাক্টরিতে সাগর, আমি আর সাগরের মা (লাবন্য রাণী) কাজ করতাম। সাগর ৩,১০০ টাকা বেতন পাইতো। সাত মাস আগে জয়েন করছে। আজকে আমার ছেলেটারে এরকম করে কেড়ে নিল?’ তিন ভাইয়ের সবার ছোট। তাদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কালিয়াজিরা থানার রাজিবপুর গ্রামে বলে জানান রতন বর্মন।

লাশ ময়না তদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এখনো অভিযুক্ত সহকর্মীর নাম জানা যায়নি। কোনো মামলাও হয়নি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ অাগস্ট বিকেলে খুলনা নগরীর টুটপাড়া এলাকায় শরীফ মটরসে কম্প্রেসার মেশিন দিয়ে শিশু রাকিবের পায়ূপথে হাওয়া ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শরীফ ও মিন্টু মিয়াকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে শরীফের মা বিউটি বেগমকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর শিশু রাকিব হাওলাদারকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে গ্যারেজ মালিক শরীফ (৩৫) ও সহযোগী মিন্টু মিয়া (৪০) ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার অপর আসামি শরীফের মা বিউটি বেগমকে (৫৫) খালাস দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন