রাজধানীর কল্যাণপুরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ত্বরিৎ পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে একটা বিরাট, ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে। কল্যাণপুরের ঘটনায় নিহত সন্ত্রাসীরা নাশকতা ঘটানোর জন্য তৈরি ছিলো বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন উদ্বোধনকালে এসব কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কল্যাণপুরে সন্ত্রাসীরা ঘটনা ঘটাবে বলে প্রস্তুতি নিয়েছিলো। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে ত্বরিৎ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে অপারেশন করা হয়। অভিযানে কয়েকজন সন্ত্রাসী মারা গেছে, একজন আহত অবস্থায় আটক হয়েছে, একজন পালিয়ে গেছে। এরা যেকোনো ধরনের নাশকতা ঘটানোর জন্য তৈরি হয়েছিলো। শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে, প্রতিরোধ করতে হবে। মানুষের জীবন নিরাপদ করতে হবে। আমরা চাই না আমাদের দেশটা সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হোক।
অভিযানের বর্ণনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মধ্যরাতে সেটা ঘেরাও দেয়া হয়। এবং সকাল পাঁচটায় অপারেশন চালানো হয়। নয়জন সন্ত্রাসী সেখানে মৃত্যুবরণ করেছে। কল্যানপুর অভিযানের জন্য তিনি পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন অত্যন্ত সফলতার সাথে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জঙ্গি তৎপরতার সাথে অনেক শিক্ষিত এবং ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কল্যানপুরের ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকেও অপারেশনে যারা … তাদের মধ্যে অনেকই এ একই ধরনের শিক্ষিত ছেলে-পেলে পাওয়া গেছে।
জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন এ ধরনের সন্ত্রাস মোকাবেলা ও প্রতিরোধ করতে করতে হবে। তবে একই সাথে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন বাংলাদেশে এ ধরনের তৎপরতা নতুন কোন বিষয় নয়। তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময় দেশজুড়ে পাঁচশটি স্থানে একযোগে বোমা বিস্ফোরণ হয়েছিল। এছাড়া বিএনপি সরকারের সময় তার সমাবেশ গ্রেনেড হামলা এবং দুই জন আওয়ামীলীগ এমপিকে হত্যার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জেলা প্রশাসকদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাইনা আমাদের দেশটা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হোক। যেভাবে হোক এগুলো দমন করতেই হবে।


