আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও কলাম লেখক গোলাম মাওলা রনি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে পুলিশ বা র্যাবের উদ্ধার করা জিহাদী বই সম্পর্কে একটি দাবি জানিয়ে বলেছেন, ‘জিহাদী বইয়ের সংজ্ঞা দিন এবং তালিকা প্রকাশ করুন!’
মঙ্গলবার দুপর ১২টায় নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এই দাবির কথা জানান।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে বিভিন্ন সময় যাদেরকে গ্রেফতার করা হয় তাদের কাছ থেকে অস্ত্রপাতি ছাড়াও জিহাদী বই উদ্ধারে ঘটনা ঘটেছে। এ খবরগুলো মিডিয়ায় বেশ ফলাও করে ছাপা হয়। কিন্তু জঙ্গি গ্রেফতারকারী পুলিশ বা র্যাবের পক্ষ থেকে কখনই জিহাদী বই এর বিষয়ে কোনও তথ্য দেয়া হয়নি। ফলে জিহাদী বইয়ের বিষয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল থাকলেও আসলে এসব বইয়ে জিহাদ বিষয়ে কি বলা হয়েছে তা জানা যায়নি।
জঙ্গি সংগঠন ছাড়াও কথিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াত-শিবির বা ইসলামী ছাত্রী সংস্থা বা মহিলা জামায়াতের নেতা-কর্মীদেরকে গোপন বৈঠক বা আস্তানা থেকে যখন গ্রেফতার করা হয় তখনও জিহাদী বই উদ্ধারের কথা বলা হয়। কিন্তু এসব বই কাদের লেখা বা জিহাদ বলতে আসলে এরা কি বোঝাতে চায় তার কোওি বিবরণ থাকে না। ফলে এ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি আব্দুল জাব্বার গত বছরের ৭ নভেম্বর নিজের ফেসবুক পাতায় জিহাদি বই উদ্ধার প্রচারণার নেপথ্যে দাবি করেন, বাসা-বাড়ীতে মানুষ যাতে কুরআন, হাদীস ও ইসলামের বিভিন্ন দিক বিভাগ নিয়ে লিখিত বই সংগ্রহে না রাখে সরকার সে জন্য ইসলামী বইকে জিহাদী বই বলে দাবি করছে। তবে ছাত্র শিবিরের নেতার এই দাবি উস্কানিমূলক।
গোলাম মাওলা রনি’র স্ট্যাটাস:
“সরকারকে বলছি- অতি দ্রুত গেজেট আকারে জিহাদী বই সমুহের তালিকা প্রকাশ করুন- বই গুলোকে নিষিদ্ধ করুন এবং আমাদেরকে বলে দিন-
১) বই গুলো নিজেদের নিকট থাকলে কি করবো- অথবা
২) অন্যের নিকট থাকলে বা দেখলে কি করবো ?
আমরা যারা নিয়মিত নানান ধরনের বই পড়ি- বইকে সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার হিসেবে দেওয়া নেওয়া করি এবং বহু চেষ্টা করে বৃহৎ লাইব্রেরী গড়ে তুলেছি তারা সাম্প্রতিক কালের জেহাদী বই নামক ফেৎনা দ্বারা ভীষন রকম বিব্রতবোধ করছি।”
প্রসঙ্গত, রনি যে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন তাকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এতে ৫ হাজারের বেশি লাইক পড়ে এবং কয়েকশ জন কমেন্টস করেন।


