বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

জঙ্গিরা পাঞ্জাবি, কেডস পরে ঘুমাতে গিয়েছিল কেন: মনিরুল ইসলাম

DMP Monirul Islamগুলশান হামলার পর সামাজিক মাধ্যমে পুলিশের ভুমিকা নিয়ে নানা ভাবে নানান কথা বের হয়েছিল। পুলিশের সাহসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল অনেকে কিন্তু কল্যাণপুরের জঙ্গি অপারেশনের পর যোগাযোগ মাধ্যমে সেই মানুষ গুলো বলছে ভিন্ন কথা এবং কিছু  প্রশ্ন উঠে আসে যেটা বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসনকে অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ করে। সামাজিক মাধ্যমে  উঠে আসা এসব প্রশ্নের জবাব দেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট প্রধান মনিরুল ইসলাম।

তিনি তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ মাধ্যমে এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেন। একটু নাটকীয় ভঙ্গিমায় তিনি তার লেখাটা শুরু করেন। তিনি তার বক্তব্যর প্রথম দিকে মানুষের প্রথমিক একটা ধারণার কথা বলেন- কল্যাণপুরে জঙ্গী আস্তানায় অভিযানকালে সন্ত্রাসীদের গ্রেনেড নিক্ষেপে পুলিশের ৪ কর্মকর্তার মৃত্যু, আহত ৪২ কর্মকর্তা, তিন জঙ্গী গ্রেফতার হলেও বাকীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে!” দুঃখিত, বন্ধু, এ রকম একটা খবর যদি আপনি আশা করে থাকেন তাহলে আমরা আপনার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি! প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় আপনি যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমরা সত্যিই দুঃখিত!

যেসব প্রশ্ন গুলো উঠে আসে তার মধ্য জঙ্গিদের পরিচয়ের বিষয়টি ও সমালোচনার বিষয় হয়ে দাড়াই- নাম-ঠিকানা না জেনে জঙ্গী বলছেন কিভাবে? জঙ্গীরা এ রকম পাঞ্জাবি, কেডস পরে ঘুমাতে গিয়েছিল কেন? ৪টি পিস্তল দিয়ে কিভাবে সারারাত মূর্হুমূর্হু গুলি চালানো সম্ভব? কেন তাদের জীবিত ধরা গেল না? এ রকম অনেক যৌক্তিক প্রশ্ন কারো মনে আসতেই পারে।

মনিরুল ইসলাম বেশ কয়েকটি বিষয়ে নজর রেখে সমগ্র বিষয়টিকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেন । তিনি এক পর্যায়ে বলেন- আমি যদি বলি আপনি বুঝেও না বোঝার ভান করছেন আপনি খণ্ডাবেন কিকরে? গোটা সোস্যাল মিডিয়া জুড়ে আলোচনা হচ্ছে যে প্রতিবেশীরা বলছে, ওই বাসার লোকেরা সারারাতই কথিত জিহাদের স্বপক্ষে শ্লোগান দিয়েছে, তাদের রুমে কথিত আইএসের পতাকা পাওয়া গিয়েছে, প্রচুর সংখ্যক উগ্রবাদী বইপুস্তক পাওয়া গেছে। তারপরও এরা জঙ্গি কিনা তা বোঝার জন্য কি রিসার্চের প্রয়োজন আছে?

আনুমানিক রাত একটার কাছাকাছি পুলিশের প্রথম দলটি বাসাটিতে নক করে এবং প্রথম দফা সংঘর্ষের পরে প্রায় সারারাত বিল্ডিংটা কর্ডন করে রাখা হয়। চূড়ান্ত অভিযান শুরু হয় ভোর ৫টা ৫০ এর দিকে। এতদীর্ঘ সময় তারা ঘুমিয়ে ছিল কিনা, এই পোষাক পরার সময় পেয়েছিল কিনা তা বোঝার জন্য বুদ্ধিজীবী হওয়ার প্রয়োজন আছে কিনা দয়া করে ভেবে দেখবেন কি?

সারারাত মূর্হূমূর্হূ গোলাগুলি হয়েছে এ রকম কোনও তথ্য আমার জানা নাই। আমি যতটুকু জানি যখনই পুলিশ বাসাটিতে ঢুকতে চেষ্টা করেছে ততবারই গুলি চালানো হয়েছে। চূড়ান্ত অভিযান হয়েছে একঘন্টার কাছাকাছি। ওই সময়েই মূলতঃ চূড়ান্ত গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আপনার বিশ্বাস এ তথ্য আপনার অজানা নয়। তাহলে কেন এ রকম প্রশ্ন তুলছেন? পুলিশের সাফল্য মানতে পারছেন না তাইতো!

আপনি তো সব জান্তা, অথচ আপনি এই ধরনের অপারেশনগুলোর ইতিহাস জানেন না। দেশে এবং দেশের বাইরে কোথায় এই ধরনের অপারেশনে কতজন জীবিত গ্রেফতার হয়েছে জানালে বাধিত হবো।

আসলে, পুলিশের কেউ মারা যায়নি কিংবা কেউ গুরুতর আহত হয়নি-এতেই তো আপনার যতো আপত্তি তাই না, বন্ধু!- এই বলে লেখাটি শেষ করেন মনিরুল ইসলাম।

আরও পড়ুন