বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

তারেককে খালাস দিয়ে পলাতক সেই বিচারকের খোঁজে ৬ দেশে চিঠি

Motahar Hossainবিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দুর্নীতি মামলায় খালাস দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সেই বিচারককে ধরে দেশে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এফবিআইয়ের কাছেও তার ব্যাপারে অভিযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

বিচারক মোতাহার হোসেনকে খুঁজে বের করতে ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ সংস্থার (ইন্টারপোল) মাধ্যমে চারটি দেশে চিঠি পাঠিয়েছে খুঁজছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়া তার অবস্থান জানতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইর কাছেও চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, দুদক বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) মাধ্যমে প্রথমে ইন্টারপোলে চিঠি পাঠায়। পরে ইন্টারপোল দুদকের ওই চিঠি মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছে। চিঠিতে পলাতক বিচারকের উপস্থিতি ও ওই সব দেশে তার অর্থ-সম্পদ আছে কি-না জানতে চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিদেশের ব্যাংকে অর্থ জমা রাখা হয়েছে কি-না জানতে সুইজারল্যান্ডের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের কাছেও চিঠি পাঠানো হয়। অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে সম্প্রতি মালয়েশিয়া সরকারের কাছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে। তবে ছয়টি দেশ ও সংস্থার কাছে চিঠি পাঠানো হলেও অদ্যাবধি তারা কোনো তথ্য সরবরাহ করেনি।

দুদকের অর্থ পাচার মামলায় ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দিয়ে গোপনে দেশ ত্যাগ করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিশেষ জজ মোতাহার হোসেন।

দুদক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানতে পেরেছে, ২০১৪ সালের জানুয়ারির শুরুতে মোতাহার হোসের ঢাকা ছেড়ে মালয়েশিয়া যান। পরে মালয়েশিয়া থেকে তিনি কোথায় গেছেন, এ খবর নিশ্চিত করে জানা যায়নি। তবে তিনি মালয়েশিয়া থেকে লন্ডন গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরে দুদক নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। হাইকোর্ট গত ২১ জুলাই খালাসের রায় বাতিল করে অর্থ পাচারের দায়ে তারেক রহমানের সাত বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তার বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনেরও সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দুদক ২০১৪ সালের শুরুতে বিচারক মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে। দুদকের উপপরিচালক হারুনুর রশীদ অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন। এরই অংশ হিসেবে ওই ছয়টি দেশে চিঠি পাঠানো হয়। তার নামে লন্ডনে একটি বাড়ি রয়েছে বলেও দুদকের কাছে তথ্য রয়েছে। একই সঙ্গে দেশে অনুসন্ধান চালিয়ে কয়েক কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এর মধ্যে ঢাকায় তার নামে বাড়ি, গাড়ি, একাধিক ব্যাংকে জমানো মোটা অঙ্কের অর্থের সন্ধান পাওয়া যায়। ঢাকার আদাবরে তার নামে একটি বাড়ি ও বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পে একটি প্লট রয়েছে। নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার হাটদোল গ্রামে বিচারক মোতাহার হোসেনের নামে-বেনামে ৫০ বিঘার বেশি জমি রয়েছে।

আরও পড়ুন