বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

খালেদার চা-চক্র থেকে নির্ধারিত হবে জামায়াতের ভাগ্য

khaleda-jamatসন্ত্রাস ও উগ্রবাদ মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের বাইরের দলগুলোকে নিয়ে চা-চক্রে বসছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আগামী সপ্তাহের যেকোনও দিন তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় এই চা-চক্র অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে চা-চক্রে অংশ নিতে কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেখান থেকে খালেদা জিয়ার ডাকা জাতীয় ঐক্যের রোডম্যাপ নিয়ে প্রাথমিক কার্যক্রম সূচিত হবে বলে ঐক্য-প্রক্রিয়ায় যুক্ত একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

দায়িত্বশীলরা জানান, খালেদা জিয়ার বাসায় অনুষ্ঠিতব্য চা-চক্রে ঐক্য নিয়ে আলোচনা হবে। ওই চা-চক্রে রাখা হচ্ছে না বিএনপির দীর্ঘ দুই যুগের ভোট ও জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীকে। ইতোমধ্যে জাতীয় ঐক্য থেকে জামায়াত নিজে থেকেই সরে দাঁড়ালেও জোটে থাকার পক্ষে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দলটি। তবে চা-চক্রে অংশ নেওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তিতে শেষ পর্যন্ত ২০ দলীয় জোটও ছাড়তে হতে পারে জামায়াতকে।

জানা গেছে, জাতীয় সংকট সামনে রেখে একটি ঐক্য প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে আগ্রহী সরকারের বাইরে থাকা দলগুলোও। এক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিতে এই দলগুলোর কাছে আমন্ত্রণ নিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির নেতারা। গতকাল মঙ্গলবার কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দীকি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি আসম আবদুর রবকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে এসপ্তাহের বাকিদিনগুলোয় অন্যান্য দলগুলোকেও আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি।

সূত্রের দাবি, খালেদা জিয়ার চা-চক্রে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন, প্রক্রিয়া, লক্ষ্য, বাস্তবায়ন ও কর্মসচি নিয়ে আলোচনা হবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতাদের পর দলনিরপেক্ষ পেশাজীবীদের সঙ্গেও চা-চক্রে অংশ নেবেন খালেদা জিয়া।

বুধবার সকালে ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত বিএনপিন্থী বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ মনে করেন, এই ঐক্যের চূড়ান্ত রেজাল্ট আসলে গণতন্ত্রহীনতাকে নস্যাৎ করে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা যা হারিয়েছি, তা ফেরত পাওয়াই হবে এই ঐক্যের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে ইতোমধ্যে জামায়াতকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১৪ জুলাই খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও বিএনপির অবস্থান পরিস্কার করতে বলেছিলেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে খালেদা জিয়াও সায় দেন। ফলশ্রুতিতে জাতীয় ঐক্যের তৎপরতা থেকে জামায়াতও সরে পড়ে এবং দলীয়ভিত্তিক জঙ্গিবাদবিরোধী কর্মসূচি দেয়।

সূত্রের দাবি, খালেদা জিয়ার বাসায় অনুষ্ঠিতব্য চা-চক্রে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা বসবেন। ওই বৈঠকে যদি জামায়াত ত্যাগের শর্তে ঐক্য গড়তে রাজি হন তারা, তাহলে জামায়াতকে জোট থেকেও ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন খালেদা জিয়া। তবে এতে বিএনপির অবস্থানও থাকতে পারে।

সূত্র জানায়, রাজনৈতিক দলগুলো শুধু জঙ্গিবাদ ইস্যুতে ঐক্য গড়তে চাইলে জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দেবে না বিএনপি। আর ঐক্য যদি নির্বাচনি এবং সরকারকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য চাপ দেওয়াকে সামনে রেখে গড়ে তোলা সক্ষম হয়, তাহলে জামায়াতকে জোট থেকে সরে দাঁড়াতে বলবে বিএনপি। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে জামায়াত প্রশ্নটি গণমাধ্যমে তুলে ধরতে বলবেন খালেদা জিয়া। ঐকমত্যে পৌঁছুলে চা-চক্রের পরই নেতারা জামায়াতবাধাটি তুলে ধরবেন। এরপর ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে খালেদা জিয়া শরিক দলের কাছে প্রসঙ্গটি উত্থাপন করবেন এবং জামায়াতকে সরে দাঁড়াতে বলবেন। তবে চূড়ান্ত অর্থে জামায়াত-বিএনপি সম্পর্ক কোন পর্যায়ে উপনীত হয়, সেটি পরিষ্কার হতে অন্তত সাতদিন সময় লাগবে বলে জানান বিএনপির সিনিয়র এক নেতা।

অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ অবশ্য জানান, ঐক্য প্রক্রিয়ায় জামায়াতকে রাখা হচ্ছে না। এমনকী জাতীয় ঐক্য চূড়ান্ত লক্ষ্যে গঠিত হলে জামায়াতকে একেবারেই চলে যেতে হতে পারে। তবে সবকিছু জানতে হলে চা-চক্রের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই উপাচার্য।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান মঙ্গলবার জানান, জামায়াত প্রশ্নে আলোচনা হবে। সবাই ঐকমত্য থাকলে বিএনপি ভিন্ন কিছু ভাবতেও পারে।

বিএনপির চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা মনে করেন, জামায়াত জাতীয় ঐক্যের বাধা নয়। এটা দুটি কারণে হতে পারে। এক হচ্ছে, জামায়াতকে একঘরে করা এবং অন্যটি বিএনপি থেকে জামায়াতকে ছাড়ানো। এতে করে ভোটকেন্দ্রিক সুবিধা হবে আওয়ামী লীগের জন্য।

জানতে চাইলে বিএনপিনেতা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এখনই এসব নিয়ে মন্তব্য করার সময় না। জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন যেকোনও মূল্যে। এটা বিরোধী দলের মাধ্যমে হোক বা সরকারের মাধ্যমে। ফলে, আলোচনা শুরু হয়েছে। আরও হবে।

মঙ্গলবার বঙ্গবীর কাদের সিদ্দীকি জানান, জামায়াত থাকলে বেহেশতে যেতেও তার আপত্তি আছে।

আরও পড়ুন