ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে ঢাকার কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৯ জঙ্গির লাশ। শনিবার সকাল পর্যন্ত কেউই মৃতদেহ নিতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।
এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান।
গত মঙ্গলবার সকালে কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের গার্লস হাই স্কুলের পাশে তাজ মঞ্জিল নামের ছয় তলা ভবন ‘জাহাজ বিল্ডিং’ এর পঞ্চম তলায় অভিযানের পর ওই ৯ জঙ্গির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, তার পর থেকেই লাশগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রয়েছে। নিহত আটজনের পরিচয় মিলেছে তবে একজনে পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনিবার সকাল পর্যন্ত ৯ জঙ্গির মৃতদেহ নিতে তাদের কোনো স্বজন যোগাযোগ করেননি।
এরই মধ্যে এ ঘটনায় ১০ জঙ্গিসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে (সিটি)। সিটির একাধিক টিম আস্তানা থেকে পলাতক জঙ্গি ইকবালসহ অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, সিটি ইউনিট মামলাটির আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
নিহত ৯ জঙ্গির মধ্যে ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হলেও তাদের লাশ কেউ নিতে আসেনি জানিয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, লাশগুলো হস্তান্তরের আগে ডিএনএ টেষ্ট করা হবে।
পুলিশ জানায়, কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের গার্লস হাই স্কুলের পাশে তাজ মঞ্জিল নামের ছয় তলা ভবন ‘জাহাজ বিল্ডিং’ এর পঞ্চম তলায় জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছিল।
ওই ভবনে গেপান সংবাদে গত সোমবার মধ্যরাতের পর পুলিশ ও র্যাবের প্রাথমিক অভিযান শুরু হয়। পরে সোয়াট বাহিনীর নেতৃত্বে ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নামে মূল অভিযান চলে ভোর ৫টা ৫১ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা।
অভিযানের পর মঙ্গলবার ভোরে ঘটনাস্থল থেকে ৯ জনের লাশ উদ্ধার হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির মধ্যে রাকিবুল হাসান নামে এক জঙ্গি আহত হয়। ওইদিন বিকেলে অভিযানে নিহত ৯ জনের ছবি প্রকাশ করে তাদের পরিচয় জানতে চায় ঢাকা মহানগর পুলিশ।
এর একদিন পর জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে সাত জঙ্গির পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। পরদিন আরেক জঙ্গির পরিচয়ও পাওয়া যায়। তবে এক জঙ্গির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়া জঙ্গিরা হলো- বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সাজ্জাদ রউফ ওরফে অর্ক ওরফে মরক্কো (২৪), নোয়াখালীর সুধারামের জোবায়ের হোসেন (২০), সাতক্ষীরার তালার মতিয়ার রহমান (২৪), ধানমণ্ডির তাজ-উল-হক রাশিক (২৫), গুলশানের আকিফুজ্জামান (২৪), পটুয়াখালীর কলাপাড়ার আবু হাকিম নাইম (৩৩), দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের আবদুল্লাহ (২৩) রংপুরের পীরগাছার রায়াহান কবির (২২)।
এদিকে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দারা বলছেন, তামিম চৌধুরী ও জুনায়েদ খান নামের পলাতক দুই জঙ্গি সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে চালানো হামলার জন্য দায়ী এই গ্রুপগুলোর অন্যতম সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছে।
তাদের ওপরে রয়েছে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হকসহ একাধিক ব্যক্তি। এরও ওপরে শীর্ষ কেউ থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, এই জঙ্গিগোষ্ঠীর অর্থও আসে একই স্থান থেকে।
জঙ্গি দমন-সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানাটি আবিষ্কারের পর অনেক কিছুই খোলাসা হচ্ছে। জঙ্গি-সংশ্লিষ্ট পুরনো মামলাগুলোও গতি পাচ্ছে। আগের বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলা ও পরিকল্পনা একই সূত্রে গাঁথা।


