৯৬৮ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিতব্য ভারত-বাংলাদেশ নতুন রেল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে দুদেশের রেল মন্ত্রণালয়।
রোববার দুপুরে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার আগরতলা রেলস্টেশন এলাকায় যৌথভাবে এ প্রকল্পের ভিতিপ্রস্তর স্থাপন করেন বাংলাদেশের রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ও ভারতের রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভাকর প্রভু।
চুক্তি চূড়ান্তের ছয় বছর পর ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আগরতলা (ভারত)-আখাউড়া (বাংলাদেশ) এ নুতন রেল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। ২০১০ সালে আগরতলা-আখাউড়া রেল প্রকল্প চূড়ান্ত হয়। সেসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমহন সিংহের সঙ্গে বৈঠকে এটি চূড়ান্ত হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের জুনে বাংলাদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রকল্পের পুরো অর্থ ব্যয় করবে ভারত।
প্রভু বলেন, ইন্দো-বাংলাদেশ রেল প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এটা ভারতের দক্ষিণ-পূর্বের আট রাজ্যের জন্য প্রবেশদার হিসেবে কাজ করবে। এ রেল প্রকল্প এ রাজ্যগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন জোরদার করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আগরতলায় যান রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। তার সঙ্গে ছিলেন রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব ফিরোজ সালাউদ্দিন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আমজাদ হোসেন এবং আখাউড়া-আগরতলা রেল প্রকল্প পরিচালক ও পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম।
সীমান্তের শূন্যরেখায় রেলমন্ত্রী ও প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান ত্রিপুরার পর্যটনমন্ত্রী রতন ভৌমিক, আগরতলা পৌর নিগমের মেয়র ড. প্রফুল্ল জিৎ সিনহা, ত্রিপুরা পশ্চিম জেলার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ডা. মিলিন রাম টেকে ও পুলিশ সুপার (এসপি) অভিজিৎ সপ্তর্ষী।
রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক সীমান্তের শূন্যরেখায় উপস্থিত দুই দেশের সাংবাদিকদের বলেন, ‘অচিরেই আখাউড়া অংশে জমি অধিগ্রহণসহ রেললাইন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। বাংলাদেশ ও ভারত দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের সম্পর্ক এই যোগাযোগে আরও সুদৃঢ় হবে। বাড়বে বাণিজ্য ও যোগাযোগ।’
ত্রিপুরার পর্যটনমন্ত্রী রতন ভৌমিক বলেন, ‘ত্রিপুরার মানুষের জন্য আজকের দিনটি ঐতিহাসিক। আজ আগরতলা থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন দিল্লির পথে চলাচল শুরু করল। একইসঙ্গে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথেরও ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হলো।’
আখাউড়া-আগরতলা রেলপথের বাংলাদেশ অংশের ১০ কিলোমিটার নির্মাণে ৩৮৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা দেবে ভারত।
রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক আরও বলেন, ‘ঢাকা থেকে পাবনা এবং দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হবে। যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হবে।’
খুলনা-মংলা রেলপথের কাজ চলছে বলেও এসময় সাংবাদিকদের জানান মুজিবুল হক।
আখাউড়া-আগরতলা ১৫ কিলোমিটার রেলপথের ১০ কিলোমিটার বাংলাদেশ অংশে ও বাকি পাঁচ কিলোমিটার ভারতের অংশে পড়েছে। আগরতলা রেলস্টেশন থেকে নিশ্চিন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের গঙ্গাসাগর স্টেশন হয়ে রেলপথটি যুক্ত হবে আখাউড়া রেলজংশনে।


