বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

খেলাফত প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনায় জঙ্গিরা

Khelafat jongiজঙ্গিদের সাম্প্রতিক দুটি হামলার ঘটনা কেবল শুরু। তারা আরো অনেক ভয়াবহ পরিনতি ঘটাতে চাইছে। এজন্য বিভিন্নভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রস্তুুতি নেয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে আরো সুসংগঠিত হবার চেষ্টা করছে। কোনভাবেই যাতে পরিকল্পনার কথা আগাম ফাঁস হয়ে না যায় ও ব্যর্থ হয়ে না যায় এজন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নিয়েছে। আটককৃত জঙ্গিরা জিজ্ঞাসাবাদে  এসব কথা জানিয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে।

সূত্র জানায়, তারা আরো জানিয়েছে এখন তাদের সামনে আর কোন বিকল্প নেই। একটাই লক্ষ্য বাংলাদেশে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেজন্য তারা যে কোন মূল্যেই তা বাস্তবায়ন করতে চাইছে। এর আগে জেএমবি ও জঙ্গিরা দেশে বিভিন্ন ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই সময়ে তাদের লক্ষ্য ছিলো কাগজের আইনের পরিবর্তে তাগুতি আইন প্রতিষ্ঠা করা। এছাড়াও ব্যক্তি বিশেষকে টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু জঙ্গিরা এখন আগের অবস্থানে নেই। তারা মনে করে এখন তারা আগের চেয়ে বেশি সংগঠিত। এখন খেলাফত প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করছে।

হোমগ্রোন জঙ্গিরা বাইরে বিভিন্ন দেশ থেকে সহায়তাও নেয়ার চেষ্টা করছে। প্রশিক্ষণও নিচেছ। তাদের কাছে সহায়তাও চাইছে। তবে বিদেশি কোন দেশ তাদেরকে নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, এরপর দেশে ফেরত পাঠিয়েছে জঙ্গি হামলা করার জন্য এখনও এমন প্রমাণ মিলেনি। তবে চেষ্টা অব্যাহত আছে। বিদেশ থেকে অর্থায়ণ হয়েছে এমন তথ্য থাকলেও এই ব্যাপারে আরো নিশ্চিত হতে চাইছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি গুলশান ও শোলাকিয়াতে হামলা করেছে জঙ্গিরা। এই ঘটনা জঙ্গিদের শক্তি সঞ্চয় করার বহিঃপ্রকাশ। ক্ষমতা, দক্ষতা ও সক্ষমতাও প্রকাশ করেছে। এখন সবার ধারণা আসলে তারা কি করতে পারে। এছাড়াও আগে মানুষ বিশ্বাস করতো না দেশে এই ধরণের কোন জঙ্গি আছে যারা সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ও সব কিছু উপক্ষো করে পরিকল্পনা মাফিক জিম্মি করে বিদেশিদের হত্যা করতে পারে। ঘটনা ঘটার পর এখন সবাই বিশ্বাস করছে। এই জন্য সমাজের সবাই বুঝতে পেরেছে জঙ্গি আসলেই ভয়াবহ রূপেই রয়েছে। কারণ ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা কারো ভাই, কারো বন্ধু, কারো ছেলে কিংবা কারো আতœীয়। গুলশানে জঙ্গিরা নিহত হওয়ায় তারা আরো আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে। তারা চাইছে যে  কোন সময়ে বড় ধরণের নাশকতার ঘটনা ঘটানোর। তারা দেশে যে গোপনে বিভিন্ন জায়গায় ট্রেনিং নিচ্ছে ও অস্ত্র সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি তারা নানাভাবে তাদের সদস্য সংখ্যা বাড়াচ্ছে সেই সব বিষয়গুলো জানার পর গোয়েন্দারা এই ব্যাপারে আরো বেশি সতর্ক রয়েছে।

সূত্র জানায়, দুটি ঘটনার পর জঙ্গিরা এটাও প্রমাণ করতে পেরেছে তাদের নেটওয়ার্ক অনেক বেশি শক্ত। স্তরে স্তরে তারা যোগাযোগ রাখে। এমনভাবে যেগাযোগ রক্ষা করে যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে সব সময় খুঁজে বের করা সম্ভব হবে না। কারণ তারা সর্বশেষ স্তরে তাদের যারা আছেন তাদেরকে খুঁজে বের করতে না পারে। এখানেও সেটা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন ধরণের কথা আসছে। নানা জনের নাম আসছে। তবে এখনও মূল পরিকল্পকারী, ইন্ধনদাতারা রয়েছে ধরা ছোয়াঁর বাইরে।

জঙ্গিদের কাছ থেকে তাদের পরবর্তী টার্গেট সম্পর্কে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন বেশ কিছু চমকপদ তথ্য। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে পুরোটা বলতে রাজি হননি। গুলশান ও শোলাকিয়ার জঙ্গিদের নেটওয়ার্কে যাদেরকে আটককরা হয়েছে তারা বলেছে, এই দুটি ঘটনার মধ্য দিয়ে তারা আবার নতুন করে শুরু করেছে। এটা ছিল একটি সামান্য ঘটনা। বলতে পারেন এটা কেবল শুরু । অনেক বড় ধরণের ঘটনা ঘটনার অপেক্ষা করছে।

সুনির্দিষ্টভাবে কোন জায়গার কথা জানা গেছে কিনা জানতে চাইলে ওই সূত্র জানায়, দিন তারিখ ও কোন জায়গায় হামলা করবে এটা বলেনি। জানা গেছে যে অনেক বড় ধরণের বিপর্যয় তারা ঘটাতে চাইছে। এর মাধ্যমে খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণ করা ছাড়াও বিশ্ববাসীকে জানাতে চায় তাদের অবস্থান। সেই হিসাবে বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। সেই বিবেচনায় সর্বস্তরের মানুষকে সতর্ক হতে হবে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *