রোম যখন পোড়ে, নিরু তখন বাঁশি বাজান। লাখ লাখ মানুষ বন্যার পানিতে ভাসছে, আর সংসদ সদস্যরা কেউ বিদেশে, কেউ ঢাকায় ব্যক্তিগত কাজ নিয়ে ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন। অথচ বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংসদ ও দলীয় নেতাকর্মীদের ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এই দুইটি উপজেলা ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর সংযোগস্থলে। তার এলাকার ৮০ শতাংশই বন্যার কবলে। এখন সংসদ চলছে না। অথচ তিনি কলকাতায়। নিচ্ছেন স্বর্ণ পদক।
সোমবার আচার্য্য দীনেশ চন্দ্র সেন স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া। সোমবার বিকেল ৫টায় কলকাতা প্রেসক্লাবে আচার্য্য দীনেশ চন্দ্র সেন জন্ম সার্ধশত বর্ষ উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে তার হাতে স্বর্ণপদক তুলে দেয়া হয়।
গত ২৬ জুলাই মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তব্যেও প্রধানমন্ত্রী এই বন্যার দুর্যোগের সময় নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় গিয়ে অবস্থান করতে সংসদ সদস্যদের তাগাদা দেন। তিনি বলেন, এই সরকারের সামনে যে তিন বছর আছে, সেই সময়ের জন্য নেয়া উন্নয়ন কাজগুলোর কথা জনগণকে জানাতে হবে।
রবিবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং পরিবেশ ও বৃক্ষ মেলা ২০১৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আবার নির্দেশ দেন।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এসব নির্দেশ সাংসদরা খুব একটা পরিপালন করছেন না বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। তাদের অনেকে এখনো ঢাকায় অবস্থান করছেন।
বন্যাকবলিত কুড়িগ্রাম জেলার চার সাংসদ হলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এ কে এম মাঈদুল ইসলাম মুকুল, এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয় পাটির (জেপি) মো. রুহুল আমিন।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম মাঈদুল ইসলাম আজ সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় নিজের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে অফিস করেছেন। এই সাবেক মন্ত্রী কাশেম গ্রুপের চেয়ারম্যান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাঈদুল ইসলাম বলেন, “আমি অসুস্থ। সেরে উঠলেই এলাকায় যাবো। তবে বন্যাদুর্গতদের উদ্ধারের জন্য আমার লোকজন কাজ করছে। সরকারি বরাদ্দ ছাড়াও আমি ব্যক্তিগতভাবে ত্রাণসামগ্রী দিয়েছি।”
কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান অবস্থান করছেন রাজধানীর লালমাটিয়ার বাসায়। তিনি বলেন, “বন্যায় আমার এলাকায় সরকারিভাবে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে।” তার লোকজনও এলাকায় কাজ করছে বলে জানান তিনি।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইমলাম চৌধুরী রোজার ঈদের আগে ইংল্যান্ড গেছেন। এখনো ফেরেননি। তার অফিসের এক কর্মকতা জানান, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আগামী বুধবার দেশে ফিরবেন।
কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, “আমি প্রথম দিনই যাওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু রাস্তা খারাপ বলে জামালপুরে অবস্থান করছি। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হলে এলাকায় যাব।”
তবে এমপিরা এলাকায় না থাকলেও বন্যার এই দুর্যোগে জেলার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা ত্রাণ নিয়ে মাঠ নেমেছেন।
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি তাসভীরুল ইসলাম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকলেও আমার জেলায় উপজেলার চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও দলের নেতারা প্রতিদিন বন্যার্তদের উদ্ধারে কাজ করছি।”
উলিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতি শিউলী বলেন, “আমার এলাকায় সরকারি দলের কোনো সংসদ সদস্য নেই। তারপরও প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নির্দেশে গরিব মানুষজনকে উদ্ধারে কাজ করছি এবং সরকারি ত্রাণ বিতরণ করছি।”


