বকেয়া পড়া পৌনে পাঁচশ কোটি টাকা শোধ করতে না পেরে খাদের কিনারে পৌঁছে যাওয়া দেশের একমাত্র সিডিএমএ মোবাইল অপারেটর সিটিসেল বন্ধ করে দেওয়া হবে কি না- সে বিষয়ে সরকারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিটিসেলের একটি প্রতিনিধি দল দুদিন আগে বিটিআরসিতে গিয়েছিল জানিয়ে সংস্থার চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আলোচানার সারসংক্ষেপ সরকারের কাছে পাঠানো হবে। সরকারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে- সিটিসেল বন্ধ হবে কি হবে না। পাওনা টাকা আমরা নেব কি নেব না তা- সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়।”
সিটিসেলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির আলাপ হয়েছে। তাদের বক্তব্য আমরা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি। এখন সিটিসেলের বিষয়ে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। জানিয়েছেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ।
রাজধানীর রমনায় বিটিআরসির সম্মেলন কক্ষে বুধবার (৩ আগস্ট) ‘দেশব্যাপী অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের জিআইএস মানচিত্র’ অবমুক্তকরণ উপলক্ষে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের প্রথম টেলিকম অপারেটর সিটিসেলের কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে ৪৭৭ কোটি টাকা। এই টাকা সিটিসেল ফেরত দিতে এলে তা নেওয়া হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত সরকার নেবে। তিনি বলেন, সিটিসেল টাকা ফেরত দিতে এলে আমরা তা নেব কিনা তা সরকারের সিদ্ধান্ত।
ড. শাহজাহান মাহমুদ আরও বলেন, বিটিআরসি গ্রাহকদের স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দেয়। সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্তে সিটিসেলের গ্রাহকদের সমস্যা হলে বিটিআরসি তা দেখবে।
তিনি আরও বলেন, এমএনপি চালুর সঙ্গে সিটিসেলের বিষয়টির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে আমরা গ্রাহকদের সব সময় বেশি প্রায়োরিটি দেই।
সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসির কমিশনার জহুরুল হক বলেন, বিটিআরসির নিজস্ব যে আইন আছে (আইনের ৯৫ ধারা) সেই আইনে আগস্টের ১ তারিখেই সিটিসেল বন্ধ করে দিতে পারত। কিন্তু গ্রাহকদের কথা ভেবে বিটিআরসি তা করেনি।


