বন্দী আসার এক সপ্তাহও হয়নি। এরইমধ্যে চরম অব্যবস্থাপনা আর ক্রটি ধরা পড়েছে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জে। সময়মতো জুটছে না খাবার, মিলছে না পানি। রান্না ঘরে নেই পানি সরবরাহ কিংবা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা। সুয়ারেজ লাইন উপচে পড়ছে ময়লা-আবর্জনা। শুধু তাই নয়, দুই-তিনদিন অপেক্ষা করেও, বন্দীর দেখা পাচ্ছেন না স্বজনরা। এমন ৩৬টি সমস্যা চিহ্নিত করেছে কারা অধিদপ্তর।
ভুক্তভোগী একজন নুরুন্নাহার। কারাবন্দী ভাইকে একনজর দেখবেন বলে, ভোলা থেকে এসেছেন কেরানীগঞ্জে। কোলের ছোট্ট শিশুকে নিয়ে এই তপ্ত রোদে তার অপেক্ষা, বুধবার সকাল থেকে। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত মেলেনি ভাইয়ের দেখা।
নুরুন্নাহারে মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকা, এমন অসংখ্য স্বজন এখন খোলা আকাশের নিচে কেরানীগঞ্জের নতুন এ কারাগারের সামনে। অনেকের চারদিনেও সাক্ষাত মিলেনি বন্দী স্বজনের সাথে।
আর যাদের সাক্ষাত মিলছে, তারাও ভালভাবে দেখতেও পারছেন না, প্রিয়জনের মুখখানি। কেননা দুই-পাশের লোহার বেষ্টনীর মাঝে কাঁচের বদলে বসানো হয়ছে অস্বচ্ছ প্লাস্টিক। যেখানে পুরান ঢাকার কারাগারে একসাথে ১২০ জন বন্দির সাথে দেখা করতে পারতেন স্বজনরা, এখানে পারছেন মাত্র ৩২ জন। ফলে সাড়ে ছয় হাজার বন্দির সাথে নিয়মিত সাক্ষাত পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
এছাড়া কারারক্ষীদের এখনো সরবরাহ করা হয়নি হ্যান্ড মাইক। ফলে, চিৎকার করেই খুঁজতে হচ্ছে বন্দির স্বজনদের।
এরপর কারাগারের নিরাপত্তারক্ষীদের আবাস স্থল। এ-কদিনেই সুয়্যারেজ লাইন উপচে ময়লা পানি। একই অবস্থা ভেতরেও। ভবনের ভেতরেই লাকড়ির চুলার রান্না ঘর। নেই পানি সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা। এযেন যাচ্চ্ছে তাই অবস্থা।
আর কারাগারের প্রধান ফটক দিয়েও ঢুকতে পারে না বড় প্রিজন ভ্যান। কারাগারের বাইরে দৃশ্যমান এমন অনেক ক্রটি ক্যামেরায় ধরা পড়লেও। ভেতরের ক্রটি উঠে এসেছে, কারা অধিদপ্তরের নিজস্ব অনুসন্ধানেই।
গেল শুক্রবার রাজধানীর নাজিমিউদ্দিন রোডের সোয়া দুশ বছরের পুরানো ঠিকানা ছেড়ে, এখানে আনা হয় ৬ হাজার ৪০০ বন্দিকে।
২০০৭ সালে শুরু হওয়া নতুন এই কারাগারের কাজের প্রথম ধাপ শেষ উদ্বোধন করা হয় চলতি বছর এপ্রিলে। হাজারো সমস্যায় জর্জরিত এর প্রকল্প পরিচালক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আব্দুল হককে বুধবার বদলি করা হয় অন্য মন্ত্রণালয়ে।


