বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

হৃদরোগ হতে পারে এনার্জি ড্রিংকে

ridহূদরোগের সঙ্গে এনার্জি ড্রিংকের সম্পর্ক থাকতে পারে। বিশেষত এরিথমিয়া নামে পরিচিত অস্বাভাবিক হূদস্পন্দনজনিত রোগের সঙ্গে এনার্জি ড্রিংকের সম্পর্ক রয়েছে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গেছে। খবর লাইভসায়েন্স।

সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার একদল গবেষক হূদরোগ ও প্রচলিত এনার্জি ড্রিংকের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক নিরূপণে একটি গবেষণা চালান। এ-সম্পর্কিত বিগত কিছু গবেষণা প্রতিবেদন ও বিভিন্ন হাসপাতালে হূদরোগের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হওয়া তরুণদের ওপর গবেষণা চালান তারা। তাদের গবেষণা ফলাফলটি জার্নাল অব এডিকশন মেডিসিনের জুলাই-আগস্ট সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।

নতুন এ গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত এনার্জি ড্রিংক পানের ফলে তুলনামূলক স্বাস্থ্যবান তরুণরাও হূদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এনার্জি ড্রিংকের কারণে, বিশেষ করে এরিথমিয়া নামক হূদরোগে আক্রান্তের আশঙ্কা বেশি থাকে।

গবেষণা প্রতিবেদনে ২৮ বছর বয়সী এক তরুণের উদাহরণ টানা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সে এসেছিল হূদজনিত সমস্যা নিয়ে। তার ছিল উচ্চ হূদস্পন্দনজনিত সমস্যা, যা অস্বাভাবিক হূদস্পন্দন বা এরিথমিয়ার একটি প্রকরণ। ওই তরুণের কাছ থেকে জানা যায়, সে দিনে দুটি করে এনার্জি ড্রিংক পান করত। একই সমস্যায় আরো তরুণের সঙ্গে কথা বলেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, হূদরোগে আক্রান্ত তরুণদের চিকিত্সার সময় তাদের এনার্জি ড্রিংক পানের অভ্যাস সম্পর্কে খোঁজ-খবর করা উচিত। বিশেষ করে যারা অস্বাভাকি হূদস্পন্দনজনিত সমস্যায় ভোগে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিত্সকদের এ তথ্য নেয়া জরুরি।

এর আগের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এনার্জি ড্রিংক গ্রহণের পর পরই শরীরের রক্তচাপ বেড়ে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর মাত্রা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছায়। এছাড়া বহু তরুণ সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া গেছে, যারা এনার্জি ড্রিংক পানের পর হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মায়ো ক্লিনিকে চিকিত্সা নিতে আসা ২৬ বছর বয়সী এক তরুণের কথা জানা যায়, যে আট থেকে ১০টি এনার্জি ড্রিংক পানের পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ-সম্পর্কিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রক্তসহ বমি করতে শুরু করায় ওই তরুণ হাসপাতালে আসে।

চিকিৎসকদের সে জানায়, সে পর পর দুটি বড় এনার্জি ড্রিংক (সাধারণ আকৃতির আট থেকে ১০টির সমতুল্য) পান করেছে। ওই এনার্জি ড্রিংকের প্রতিটিতে ছিল ১৬০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন। অর্থাত্ ওই তরুণ ওইদিন মোট ৩২০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন গ্রহণ করে।

বিভিন্ন পরীক্ষার পর দেখা যায়, তরুণটির হূদযন্ত্র ছাড়া আর সবকিছুই স্বাভাবিক রয়েছে। তার হূদস্পন্দন ছিল মিনিটে ১৩০টি। প্রসঙ্গত, স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষের হূদস্পন্দন থাকে ৬০ থেকে ১০০-এর মধ্যে।

গবেষকদের মতে, ক্যাফেইনের কারণে হূদযন্ত্রের কোষগুলো থেকে ক্যালসিয়াম নিঃসৃত হয়। আর এ ক্যালসিয়ামই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে হূদস্পন্দনে। উচ্চমাত্রার ক্যাফেইনের ফলে পালপিটিশনের পাশাপাশি বমিও হতে পারে।
একই ধরনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও।

২০০৪ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে অন্তত ৪০টি হূদরোগ-সম্পর্কিত সমস্যার কথা জানায় সংস্থাটি, যার প্রতিটিই ছিল এনার্জি ড্রিংকের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে গবেষকরা বলেন, এনার্জি ড্রিংক ও হূদরোগের মধ্যে এ আন্তঃসম্পর্কের বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আরো বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে এখনই সচেতন হতে কোনো মানা নেই, বরং এটি তরুণদের মধ্যে হূদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়কই হবে।

আরও পড়ুন