দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদরা জীবন দিয়ে জাতিকে যে ‘রক্তঋণে’ আবদ্ধ করেছেন, তা শোধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার সচিবালয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জন প্রশাসন মন্ত্রাণলয় আয়োজিত রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “জাতির পিতা আমাদের রক্ত ঋণে আবদ্ধ করেছেন। লাখো শহীদ আমাদের রক্ত ঋণে আবদ্ধ করেছেন। তাদের রক্তের ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে।
“এদেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে গিয়েই জাতির পিতা জীবন দিয়ে গেছেন, রক্ত দিয়ে গেছেন। তার রক্ত ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে।” শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধীনতার পর দেশের মানুষের মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। স্বাধীনতার আগে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে অবাঙালি পশ্চিম পাকিস্তানিদের বৈষম্যের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
১৯৫৬ সালের ৯ জানুয়ারি ডন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, তখন কেন্দ্রীয় সরকারে ২২ জন অবাঙালি সচিব থাকলেও কোনো বাঙালি ছিলেন না।
এছাড়া অবাঙালি যুগ্ম সচিব ৪২, বাঙালি ৮, অবাঙালি উপ-সচিব ৫৯, বাঙালি ২৩, অবাঙালি সেকশন অফিসার ৩২৫ জন, বাঙালি ৫০, কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েটে অবাঙালি অফিসার ৬৯২, বাঙালি মাত্র ৪২ জন ছিলেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
সে সময় সামরিক বাহিনীতেও বৈষম্যের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সেনাবাহিনীতে তিনজন অবাঙালি জেনারেলের বিপরীতে কোনো বাঙালি ছিলেন না। একইভাবে অবাঙালি মেজর জেনারেল ২০ থাকলেও এ পদে কোনো বাঙালি ছিলেন না।
এছাড়া ব্রিগেডিয়ার অবাঙালি ৩৪, বাঙালি ০, কর্নেল অবাঙালি ৪৯, বাঙালি ১, লেফেটেন্যান্ট কর্নেল অবাঙালি ১৯৮, বাঙালি ২, মেজর অবাঙালি ৫৯০, বাঙালি ১০ জন ছিলেন বলে জানান তিনি।
নৌ বাহিনীর অফিসার অবাঙালি ৫৯৩ জন, বাঙালি ৭ এবং বিমান বাহিনীতে অবাঙালি অফিসার ৬৪০, বাঙালি মাত্র ৪০ জন ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানে বাঙালিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকলেও তাদের ‘তেমন কোনো’ অধিকার ছিল না।
“বাঙালির ন্যায্য অধিকার আদায় করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অকথ্য নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।”
শেখ হাসিনা বলেন, ত্যাগ স্বীকার ও আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এদেশে স্বাধীনতা আসার পর জাতির পিতার নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন করে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির কাজ শুরু হয়।
কিন্তু স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ‘স্বধীনতা বিরোধী, পরাজিত শক্তির দালাল ও আন্তর্জাতিক শক্তির ষড়যন্ত্র’ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু যে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছিলেন, অনেক ‘বাধা-বিঘ্ন’ অতিক্রম করে তা শেষ করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান শেখ হাসিনা।
দেশের নানা খাতে উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
মানুষকে সেবা দেওয়া, অন্যায় দমন ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকারি কর্মচারীদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশের উদ্ধৃতি টেনে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার কথাগুলো যারা দায়িত্বে রয়েছে সকলেরই মনে রাখা উচিৎ।
“আমরা জনগণের সেবক, জনগণের সেবা করব। জনগণের রক্ত ঘাম দিয়েই তো আমাদের বেতন, ভাতা সবকিছু- একথাটা যেন এক মুহূর্তের জন্যও ভুলে না যাই।”
রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করায় শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এর থেকে বড় সেবা আর কিছু হয় না।”
জন প্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দ্বিতীয়বারের মত এবার রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হল। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত বছর ৯৭ জন সরকারি কর্মচারী রক্ত দিয়েছিলেন, এবার রক্ত দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন ৪২২ জন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।


