জঙ্গিবাদ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশপ্রধান এ কে এম শহীদুল হক। বুধবার ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “যারা ভুল পথে গেছে, জঙ্গি পথে গেছে, তারা যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সহযোগিতা করবে। কোনো ডিস্টার্ব করবে না।”
তবে ‘তারা’ অতীতে কোনো অপরাধ করেলে তাদের বিষয় ‘ভিন্ন’ বলে জানান আইজিপি। রাজধানীর গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় নিহত চার পুলিশ সদস্যের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক।
জঙ্গিবাদে জড়িতদের কোনো প্রকার ছাড় না দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “যারা জঙ্গি বিস্তারে কাজ করছে, এসব অশুভ শক্তিকে সম্মিলিতভাবে নির্মূল করা হবে। বাংলার মাটিতে জঙ্গিবাদের ঠাঁই নাই। যত ষড়যন্ত্রই হোক পুলিশ তৎপর আছে।”
গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর সেখানে অভিযানে গিয়ে প্রাণ হারান এসি রবিউল করিম ও ওসি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। ছয়দিনের মাথায় শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের কাছে জঙ্গি হামলায় মারা যান কনস্টেবল আনসারুল হক ও জহিরুল হক।
অনুষ্ঠানে তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যো মা ও স্ত্রীকে সব মিলিয়ে ৯০ লাখ টাকার নগদ অর্থ ও সঞ্চয়পত্র তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে রবিউলের মা করিমন্নেছাকে ৫ লাখ ও স্ত্রী উম্মে সালমাকে ১৫ লাখ এবং সালাউদ্দিনের স্ত্রী রেমকিমকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়।
এছাড়া আনসারুলের স্ত্রী নুরুন্নাহারকে ৫০ হাজার নগদসহ সাড়ে সাত লাখ ও মা রাবেয়া আক্তারকে ৫০ হাজার নগদসহ সাড়ে ৭ লাখ এবং জহিরুলের মা জোবায়দা খাতুনকে নগদ অর্থসহ ১৫ লাখ টাকার অনুদান দেওয়া হয়।
পাশাপাশি মধুমতি ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকার অনুদান দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, গুলশান হামলায় নিহতদের সহযোগিতায় এক কোটি ১০ লাখ টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে পুলিশ।


