দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের বসবাসের জন্য বাসাবাড়ির সমস্যা সমাধানে বিশেষ পরামর্শ দিয়ে সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তরকে একটি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার ওই চিঠি সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবের কাছে ৭ আগস্ট পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মেছবাহ উল আলম প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠি সরকারের অন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সচিবদের কাছে পাঠিয়েছেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, ঢাকা মহানগর ও এর আশপাশের এলাকায় মাত্র ৮ শতাংশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসন সুবিধা পেয়েছেন। বাকি ৯২ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি আবসন-সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ফলে বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ভাড়া বাসায় থাকতে হয়। এজন্য দ্রুত আবাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৯২ শতাংশ আবাসন-সুবিধার বাইরে রয়েছেন। আবাসন-সুবিধার বাইরে থাকা এসব চাকরিজীবীদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন। এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য তার মুখ্য সচিব ভূমি সচিব মেছবাহ উল আলমকে অবহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের নির্দেশনা পেয়ে ভূমি সচিব সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের এই বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন।
চিঠিতে ভূমি সচিব সংশ্লিষ্ট সব সচিবকে বলেছেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ ঢাকা মহানগরী ও আশপাশে অবস্থিত বিভিন্ন দপ্তর/অধিদপ্তর/বোর্ডে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তীব্র আবাসন সংকটে রয়েছেন। এ সমস্যা সমাধানে প্রকল্প নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় (আমিনবাজার, আশুলিয়া, সাভার, কেরানীগঞ্জ, টঙ্গী ও নারায়নগঞ্জ সদর) সরকারি অব্যবহৃত জমিতে আবাসন সুবিধা গ্রহণে প্রকল্প নেওয়া যেতে পারে।
এজন্য এসব এলাকায় নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও তার অধীনস্থ দপ্তর/অধিদপ্তর/বোর্ডে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসস্থান নির্মাণে দ্রুত প্রয়োজনীয় জমি চিহ্নিত করে তা প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও ভূমি সচিবকে অবহিত করার অনুরোধ করা হয়।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আরও জানান, ঢাকার মতো বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতেও এভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসনের সমস্যা সমাধানে স্ব স্ব মন্ত্রণালয় বা দপ্তরকে উদ্যোগ নিতে বলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।


