বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

কেন্দ্রীয় দুই নেতার সামনেই সভায় বিএনপির কমিটি নিয়ে ক্ষোভ

BNP-committee

নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার প্রতিবাদে বিএনপির সহেযোগী এক সংগঠনের ডাকা আলোচনা সভায় দলটির নতুন কমিটি নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ ঝেড়েছেন দলের নেতাকর্মীরা।

জাতীয় প্রেসক্লাবে শুক্রবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের ওই সভায় দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দুই নেতার সামনেই ‘অনেক ত্যাগী নেতাকে বাদ দিয়ে’ কমিটি গঠন করা হয়েছে অভিযোগ করেন তারা।

কাউন্সিলের সাড়ে চার মাস পর গত ৬ অগাস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে ৫০২ সদস‌্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পরপরই পদত‌্যাগের ঘোষণা দেন ভাইস চেয়ারম‌্যান মোসাদ্দেক আলী ফালুসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। দলে পদ না পেয়ে অনেকেই কমিটি নিয়ে খেদ জানিয়েছেন।

ঢাকার খিলগাঁও থানা বিএনপির সভাতি ইউনুস মৃধা বলেন, “যারা রাজপথে সক্রিয় ছিল তাদের এবং কর্মীবাহিনী থেকে নেতৃত্ব সৃষ্টি করলে দল আরও শক্তিশালী হত।”

শুক্রবারের এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিত বলে আয়োজকরা জানান।

বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব জাকির হোসেন বলেন, প্রধান অতিথি থাকলে আরও ক্ষোভের কথা বলতাম। “কোন যোগ্যতায় বিএনপির কমিটিতে জায়গা পাওয়া যায়? কমিটিতে স্থান পাওয়াদের মধ্যে এক-এগারোর পরে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কর্মসূচিতে কয়জন ছিলেন”, প্রশ্ন রাখেন শিক্ষক নেতা জাকির।

পারভেজ আহমেদ নামে বিএনপির এক নেতা বলেন, “অনেক ক্ষোভ আছে, কষ্ট আছে, দুঃখ আছে। তবে রাজনীতি করতে গেলে হতাশা রাখা যাবে না।”

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য আবেদ রেজা বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, “আমাকে নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলেও আমি এই কমিটির কোনো পদেই নেই। এখন আমি বিএনপির একজন কর্মী, বিএনপির লাখ লাখ কর্মী, আমাদের দলই বড়।

“আমরা লড়াই সংগ্রামে আছি, থাকব, বেইমানি করব না। এই সংগঠনের (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দল) একজনকে নির্বাহী কমিটিতে নেন।বাকী যেসব সংগঠন আছে তাদের কথাও ভাবেন।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কেন্দ্রীয় কমিটির দুইজন নেতার উদ্দেশে আবেদ রেজা জোর গলায় বলেন, “ওখানে গিয়ে সরব হন, নিশ্চুপ থাইকেন না, আপনারা উদ্যোগ নেন।” এরপর নিজেকে একটু সামলে নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা এসব নিয়ে যদি কামড়া-কামড়ি করি করি তবে শেখ হাসিনা কইবো, বাহ! লাগাইয়া দিছি।”

কর্মজীবী দলের সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন খান বলেন, “সব পদ কেউ একা নিয়ে বসে থাকবেন- এটা হতে দেওয়া যাবে না। যারা পরিশ্রম করেছেন দলে তাদের পদ দেবেন।”

বিএনপির নতুন কমিটিতে প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদকের পদ পাওয়া এ বি এম মোশারফ হোসেন বলেন, “অনেক কথা শুনেছি। আমারও ক্ষোভ-অভিমান আছে। আমি মনে করি সেটা খুবই যৌক্তিক। “বিএনপিতে কোটি কোটি কর্মী-সমর্থক থেকে কমিটি করা দুরূহ কাজ। কেউ কেউ বঞ্চিত হয়েছেন, লেখালেখি হচ্ছে, আলোচনা হচ্ছে, বিশ্বাস করি সমাধান হবে।”

আওয়ামী লীগ সরকার ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ চালাচ্ছে অভিযোগ তুলে মোশারফ বলেন, “পদ পেয়েও কি কেউ শান্তিতে আছেন? কেউ কি গ্যারান্টি দিতে পারেন সালাউদ্দিন আহমেদ সুস্থ্মতো দেশে ফিরে আসতে পারবেন?”

বিএনপির নতুন কমিটি ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান বলেন, “কমিটি নিয়ে অনেকে কষ্টের কথা বলেছেন। সকলের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে সে কথা বলব না, অনেকেরই নাম নেই। “আমি বলব, তাদের নাম থাকা উচিত ছিল। কারণ আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘ সময় তাদের দেখেছি।”

বর্তমান সময়কে বিএনপির জন্য ‘সবচেয়ে কঠিন’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, “এই সময়ে কমিটি গঠন করা ছিল আরও কঠিন। কারণ দল ধ্বংস করতে নানা তৎপরতা চলছে। সরকার উসকানি দিচ্ছে- যে দল থেকে বাদ পড়ে তাকে দিয়ে বিকল্প বিএনপি করার। এখন আক্ষেপ অভিযোগের সময় না, ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়। কথা দিচ্ছি সমন্বয়ের জন্য নিশ্চিতভাবে কথা বলব।”

আলোচনা সভায় বেশির ভাগ বক্তাই বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের কঠোর সমালোচা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সরকার খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করলে জেলের তালা ভেঙে তাকে মুক্ত করার কথাও বলেন কেউ কেউ।

তবে সভায় তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির জোটসঙ্গী কল্যাণ পার্টির সহসভাপতি সাহিদুর রহমান তামান্না। তিনি বলেন, পুকুর চুরিকে ঢাকার জন্য সরকার গ্যাসের দাম বাড়ানো উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগ থেকে সরে আসতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের সভাপতি মো. লিটনের সভাপতিত্বে দলঠির সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসেন সরকার আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন।

আরও পড়ুন