সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সরকার বিরোধী দলকে দমন করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই, নেই কথা বলার স্বাধীনতা আর প্রতিনিয়ত মানুষের অধিকার লুণ্ঠিত হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য আজকে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তারা যেভাবেই হোক, জঙ্গিবাদের বিষয়টাকে তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তারা আজকে গোটা বাংলাদেশে অত্যাচারের নিকৃষ্ট নির্যাতন চালাচ্ছে। প্রথমত, জঙ্গিবাদ দমন করার নামে ১৬ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। বন্দুকযুদ্ধে নিহত হচ্ছে। প্রতিদিন, একদিনও বাদ যাচ্ছে না। যাদের ধরা হচ্ছে, সাসপেকটিভ টেররিস্ট (সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী) হিসেবে তারা কেউ আদালতের মুখ দেখছে না। তারা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হচ্ছে।’
শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। এনডিপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার জাহিদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের আহ্বান নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে এই আহ্বান জানিয়েছেন। এটা তাঁর অন্তর থেকে এসেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, এই আহ্বান নিয়ে উল্টো মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
আওয়ামীলীগের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিবের বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো দিন জাতিকে রক্ষার আহ্বানে সাড়া দেয়নি। এবার খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের যে আহ্বান জানিয়েছেন, এতেও তারা সাড়া দেয়নি। দেশে গণতন্ত্র না থাকায় জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও হিংস্রতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে যা চলছে, তা ভয়াবহ অশনি-সংকেত।
বিএনপির মহাসচিব প্রশ্ন রাখেন, বাংলাদেশ কি আফগানিস্তান-পাকিস্তানের মতো হবে? বোমায় শত শত মানুষ নিহত হবে? সিরিয়ার মতো লাখো মানুষ বাস্তুহারা হয়ে চলে যাবে? দেশে গণতন্ত্র নেই। জনগণের মৌলিক অধিকার নেই। শাসকদল একদলীয় শাসন বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।
নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য, ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হলে চলমান সমস্যার সমাধান সম্ভব।
মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যের শুরুতে আনোয়ার জাহিদকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, জীবদ্দশায় আনোয়ার জাহিদ কখনো অর্থের পেছনে ছোটেননি। তিনি সব সময় মানুষের কথা বলতেন। কিন্তু তাঁর শেষ সময় ভালো যায়নি। তাঁর লেখাগুলো সংকলন করে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বানও জানান বিএনপির মহাসচিব।
এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, আনোয়ার জাহিদের ভাই সাংবাদিক মোয়াদুর রহমান প্রমুখ।


