বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

পর্ণ ভিডিও তৈরির অভিযোগ: মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা বরখাস্ত

Madrasa teacherপর্ণগ্রাফি ভিডিও তৈরীর অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ আদর্শ মাদ্রাসার অর্থনীতির প্রভাষক ও সহকারী শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। এমন খবর নিশ্চিত করছেন মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক। শিক্ষক দুইজন হলেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষের ভাগিনা সাকিব কামাল ও ভাতিজি আকলিমা।

এদিকে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি তাদের পুনরায় মাদ্রাসায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

মুন্সীগঞ্জ আদর্শ ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা মুন্সীগঞ্জ শহরের একমাত্র আলিয়া মাদ্রাসা। বিষয়টি এখন মুন্সীগঞ্জে আলোচনার ঝড় বইছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রিন্সিপালের ছত্রছায়ায় শিক্ষক শাকিব কামাল ও আকলিমা মিলে ভিডিও পর্ণগ্রাফী তৈরী করিত। হোস্টেলের ভিতরে মেয়েদের সাথে দৈহিক মেলামেশা করতো। একদিন শিক্ষকের পাশের রুমে থাকা ছাত্রদের দরজার পাশে মেয়েদের সেন্ডেল দেখতে পান হোস্টেলে থাকা ছাত্ররা। পরে ছাত্ররা শিক্ষকের রুমে গিয়ে আলো নিভানো অবস্থায় একটি মেয়ের সাথে দেখতে পান। এর বেশকিছু দিন পর শিক্ষকের রুমে যাওয়া আসা করা কয়েকজন ছাত্র শিক্ষকের ল্যাপটপে গজল এবং ইসলামিক গান শুনছিলেন। হঠাৎ ছাত্ররা শিক্ষকের ল্যাপটপে একটি ভিডিও পণ্য ক্লিপ দেখতে পায়। সাথে সাথে ছাত্ররা মাদ্রাসার অন্যান্য সিনিয়র ছাত্রদের বিষয়টি জানালে তারা ভিডিওটি পেনড্রাইভে করে নিয়ে আসেন। ছাত্ররা সকলে মিলে অভিযুক্ত শিক্ষক শাকিবকে শসিয়ে সতর্ক করে দেন। পরে বিষয়টি প্রিন্সিপালসহ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নুরুল হক মাদবরসহ সকলকে জানায় ছাত্ররা। অভিযোগের বিষয়টি প্রথমে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাহাবুবুর রহমান অস্বীকার করেন। ছাত্ররা সমস্ত প্রমাণ দেখানোর পর প্রিন্সিপাল বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর অভিযুক্ত দু’জন শিক্ষক শাকিব কামাল ও আকলিমা পালিয়ে যায়। এর কিছুদিন পর প্রিন্সিপাল ছাত্রদেরকে জানান যে, তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

আদর্শ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নুরুল হক মাদবর বলেন, আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই অভিযুক্ত শিক্ষকরা পালিয়ে যায়। এ মাদ্রাসা চালুর পর থেকে এমন নানা ঘটনা ঘটছে। এ প্রিন্সিপাল ও দু’জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরো একবার এমন অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। যারা এসব অপকর্ম করেছে বা করতে সহযোগিতা করেছে তাদেরকে সুলে চড়িয়ে শাস্তি দেওয়া উচিত। অভিযুক্ত প্রিন্সিপালকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দিলে মাদ্রাসাটি কলঙ্ক মুক্ত হবে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াত নেতা মাওলানা মাহবুবুর রহমানকে ফোন করিলে তিনি অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বহিস্কারের বিষয়টি স্বীকার করেন। অন্যান্য বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দিয়ে মোবাইলের সুইচ অফ করে দেন। পরে একাধিকবার তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন