বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

হত্যার মাধ্যমে বিরোধীরা স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করতে চেয়েছিল: আমু

Amu_2‘১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে বাঙালির অধিকার, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করতে চেয়েছিলো স্বাধীনতারবিরোধী শক্তি। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু অমর হয়ে থাকায় বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন।’

শনিবার রাজধানীতে এক সেমিনারে এসব কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে সকাল এগারোটায় অনুষ্ঠিত ‘জাতি নির্মাণ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক ওই সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন আমু।

তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাধ্যমে এদেশের মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে। বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১৯৫৬ সালে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক পরিষদ সরকারের মন্ত্রী হওয়ার পর নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।”

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ‘বাংলাদেশ’ নামে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় এ অঞ্চলের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তীতে এদেশের বিরোধীতাকারীরা তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছিলো। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার চেষ্টা করছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির বলেন, স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার হরণের পথ তৈরি করেছিলো। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. খুরশিদা বেগম বলেন, বঙ্গবন্ধু অমরত্বের বর। দেশের মানুষের মনে বঙ্গবন্ধু বেঁচে আছেন, এটাই জাতি নির্মাণে বঙ্গবন্ধুর স্বার্থকতা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হাতে যে জাতি নির্মিত হয়েছে, সেই জাতি আজ দেশ পাহারা দিচ্ছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, চরম যন্ত্রণা থেকে মানুষ শুদ্ধ ও সাহসী হয়ে উঠে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন সময়ে যন্ত্রণা দিয়েছে, ষড়যন্ত্র করেছে। শেখ হাসিনা সেইসব যন্ত্রণা ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আজ শুদ্ধরূপে সরকার পরিচালনা করে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল খায়ের। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক।

আরও পড়ুন