বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

আরেক বৃক্ষমানবের সন্ধান ঠাকুরগাঁওয়ে

Brikho Manob Thakurgaon‘মা-বাবা আর দুই বইন ছাড়া আমাক কেউ পছন্দ করে না। স্কুলে কেউ আমার কাছে আসতে চায় না। ঠিকমতো খাইতে পারি না। চামুচ দিয়া ভাত খাই। অন্য বন্ধুদের মতো খেলতে পারি না। কোনো কাজ করতে পারি না।’

একবুক হাহাকার নিয়ে খুব নিচু স্বরে কথাগুলো বলছিল আট বছর বয়সী শিশু রিপন। জন্মের চার মাসের মাথায় অজ্ঞাত ও জটিল এক রোগে আক্রান্ত হয় সে। গুটি গুটি শুকনো ঘায়ে ভরে গেছে তার হাত-পায়ের তালু। অজ্ঞাত রোগে বন্দী হয়ে পড়েছে তার শৈশব।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের কেউটগাঁও গ্রামের মহেন্দ্র রামের একমাত্র ছেলে রিপন। কেউটগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে সে।

শনিবার বিকেলে মহেন্দ্র রামের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, রিপনের হাত-পায়ের তালুর ঘাগুলো গোলাকার ও কোণাকৃতির। কোনো কোনোটি লম্বাকৃতি বিস্কুটের মতো দেখতে। নখগুলো বড় হয়ে সামনের দিকে কুঁকড়ে গেছে। তার মাথায় কালো শুকনো ঘা। ঠোঁটেও ছোট ছোট ঘা।

রিপনের মা গোলাপী রানী রায় জানান, ২০০৮ সালে জন্মের চার মাসের মাথায় রিপনের মাথা, হাত ও পায়ের তালুতে ঘামাচির মতো দেখা দেয়। তবে ঘামাচিতে কোনো রস দেখা যায়নি। চার-পাঁচ মাস পর ঘামাচিগুলো বড় আকার ধারণ করে। এর তিন-চার মাস পর সেগুলো কালো হয়ে যায়। ধীরে ধীরে হাত-পায়ের তালুগুলো জালের মতো ফাটতে থাকে। এর পরই আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে ঘাগুলো।

তিনি বলেন, ‘হাত-পায়ের গুটিগুলার দু-একটা মাঝে মাঝে খসে পড়ে। ওইগুলা পাথরের মতো শক্ত। নখ কাটলেই রক্ত বের হয়। তাই কাটি না।’

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশুরোগ চিকিৎসক ডা. শাহজাহান নেওয়াজ বলেন, ‘এটি ফানগাল ইনফেকশন হতে পারে। তবে আর্সেনিকোসিসের বিষয়টিও মাথায় রাখা দরকার। উন্নত চিকিৎসা পেলে শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।’

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মুকেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শিশু রিপনের ছবি দেখতে পাই। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে ওই পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তার পরিবারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। রিপনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢাকায় যোগাযোগ করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন।’

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *