ফেনসিডিল বহনের দায়ে চার বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ভোলার সিনিয়র সহকারী জজ (সাময়িক বরখাস্তকৃত) জাবেদ ইমাম আপিল বিভাগের নির্দেশে আদালতে আত্মসমর্পণ করে নতুন করে জামিনের আবেদন করেছেন।
তবে আপিল বিভাগের আদেশের অনুলিপি না পাওয়ায় ঢাকার হাকিম আদালত তার জামিন শুনানির জন্য ২৪ অাগস্ট দিন ঠিক করে দিয়ে বলেছে, জাবেদ ওইদিন পর্যন্ত মুক্তই থাকবেন।
রোববার ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শামসুন্নাহারের আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।
আদালতে জাবেদের আইনজীবী শামসুজ্জামান বলেন, তিনি এ মামলায় জামিনে রয়েছেন। আপিল বিভাগের আদেশের কপি আমরা এখনো হাতে পাইনি।
এ সময় বিচারক বলেন, ২৪ আগস্ট আপনারা হাইকোর্টের আদেশ দাখিল করবেন। সেদিন এ বিষয়ে শুনানি হবে এবং তিনি সে পর্যন্ত জামিনে থাকবেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় নিম্ন আদালতে জাবেদকে দেওয়া দণ্ড গতবছর হাইকোর্ট বাতিল করে দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত সাত আগস্ট প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়।
সে অনুযায়ী রোববার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন সাময়িক বরখাস্তকৃত এই বিচারক।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সামনে ব্যাগভর্তি ৩৪২ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার করা হয় জাবেদ ইমামকে।
এ ঘটনায় নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক নূর হোসেন বাদী হয়ে মাদক আইনে ওই দিনই এ মামলা করেন। একই বছরের ২০ ডিসেম্বর জাবেদ ইমামকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেন পুলিশ।
২০১৩ সালের ২৭ আগস্ট ভোলার সাময়িক বরখাস্ত হওয়া জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ জাবেদ ইমামকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় চার বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।
এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন জাবেদ ইমাম। শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে বিচারক জাবেদ ইমামকে খালাস দেন।
হাইকোর্টের এই খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করে।
২০০৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী বিচারক জাবেদ ইমাম ২০০৮ সালে সহকারী জজ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে তাকে যশোর থেকে ভোলায় বদলি করা হয়েছিল।


