বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

খুলনা বিভাগকে ভিক্ষুক মুক্ত করার উদ্যোগ

Vikkhuk_Mukto_Khulnaসময় বেলা ১১টা। খুলনা নগরীর অভিজাত নিউমার্কেটের প্রধান গেট দিয়ে লোকজন ভেতরে ঢুকছেন ও বের হচ্ছেন। একজন একটি হাত বাড়িয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে। তিনি লোকজনের কাছ থেকে ভিক্ষা দাবি করছেন। কেউ বিরক্ত হচ্ছেন, আবার কেউ এক-দুই টাকা দিয়ে দ্রুত চলে যাচ্ছেন। মার্কেটের অপর তিনটি গেট, পাশে শপিংমল সেফ অ্যান্ড সেফ এবং আড়ং ও অঞ্জন’স-এর সামনে গিয়েও দেখা গেল একই দৃশ্য-আরও কয়েকজন নারী-পুরুষ সেখানে ভিক্ষা করছেন।

শুধু নিউমার্কেটেই নয়, নগরীর সব মার্কেটের সামনেই দেখা যায় এমন চিত্র। এ ছাড়া রেস্টুরেন্ট ও মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে কিংবা বাড়ি বাড়ি গিয়েও ভিক্ষা করেন অনেকে। এবার এই ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়। গোটা খুলনা বিভাগকেই করা হবে ভিক্ষুকমুক্ত।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ বলেন, ‘ভিক্ষাবৃত্তি অসম্মানজনক পেশা। তারা পরিবার-সমাজ ও দেশের সম্মান নষ্ট করছে। এর অবসান হওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে খুলনা বিভাগকে ভিক্ষুকমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে ভিক্ষুকের সংখ্যা জানাতে খুলনা বিভাগের ১০ জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দিতে বলা হয়েছে।’

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বিভাগকে ভিক্ষুকমুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. ফারুক হোসেন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সিটি করপোরেশন ও পৌর মেয়রদের মাধ্যমে গোটা বিভাগে কতজন ভিক্ষুক আছে, তা জরিপ করা হচ্ছে। এরপর সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ফান্ড, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পসহ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি জানান, এ কর্মসূচি সফল করতে গত ১১ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনার সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, পৌর মেয়র, ইউএনও, যুব উন্নয়ন, সমবায়, সমাজসেবা ও মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন।

খুলনার জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান জানান, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশনা পাওয়ার পর তিনি ইউএনও ও পৌর মেয়রদের নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেন। তারা ভিক্ষুক শনাক্ত ও তাদের নাম তালিকাভুক্ত করার কাজ শুরু করেছেন। এরপর তাদের দর্জির কাজসহ বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তারা নিজেরাই কাজ করে উপার্জন করতে পারেন। চাহিদা অনুযায়ী কাউকে সেলাই মেশিন কিনে দেওয়া, কাউকে মুদি দোকান করে দেওয়া হবে।

এক প্রশেুর জবাবে তিনি জানান, যারা প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক তাদের প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রে, বৃদ্ধদের বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া যেসব মানসিক প্রতিবন্ধী রাস্তায় ঘোরাঘুরি করে, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান সমকালকে বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। এর বাস্তবায়নে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ভিক্ষুকদের মধ্যে যারা যে কাজের উপযুক্ত তাদের সেই কাজের ব্যবস্থা করতে পারলে ভালো হবে।’

আরও পড়ুন