‘গ্রিন ঢাকা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়র হওয়ার এক বছর পর উত্তরায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করে এখন ‘সবুজ ঢাকা’ গড়তে নিজের পুরো মেয়াদ সময় চেয়েছেন আনিসুল হক।
মেয়র বলেছেন, “এক বছর আগে যখন সবুজ ঢাকার এ চিন্তা করা হয় তখন ভয় ছিল, এটা করা সম্ভব কি না। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। উত্তরার অভিজ্ঞতা আমাদের সাহস দিচ্ছে সামনে যাওয়ার। আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে সবুজ ঢাকা গড়ে তুলতে পারব।”
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে গত বছর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়া আনিসুল হকের মেয়াদ শেষ হতে আর চার বছর রয়েছে।
বৃহস্পতিবার উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে বৃক্ষরোপণ নিয়ে জনসচেতনতা তৈরি বিষয়ক এক কর্মশালায় ৩-৪ বছরর মধ্যে সবুজ ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন মেয়র।
উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে গাছ রোপণ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “সবার বাড়িতে কিভাবে গাছ দেওয়া যায়, আমরা তা ভেবে দেখছি। প্রয়োজনে বেসরকারি অর্থায়নে আমরা সব বাড়িতে গাছ লাগাব।”
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে ‘সবুজ ঢাকা’ কর্মসূচিতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সহযোগিতা করছে।
‘সবুজ ঢাকা’ গড়ার পাইলট প্রকল্প হিসেবে গত ২ মে উত্তরা এলাকায় ২৯ হাজার গাছ লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার ৭৪৪টি গাছ লাগানো শেষ হয়েছে। এ মাসেই বাকি গাছ লাগানো শেষ হবে বলে কর্মশালায় জানানো হয়।
এ পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা রাজধানীর অন্যান্য এলাকায় বৃক্ষরোপণে কাজে লাগানোর কথা বলেন আনিসুল হক।
‘সবুজ ঢাকা’ প্রকল্পে সম্পৃক্ত হয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণের পথ দেখছেন বলে জানান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
“আমার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ছিল বৃক্ষহীন, ইটপাথরের শহরকে সবুজে পরিণত করা। এখন স্বপ্নপূরণের সুযোগ এসেছে। ঢাকায় এমনভাবে গাছ লাগাব, যেন কোনো বাড়ি দেখা না যায়।”
রাজধানীর বাড়িগুলোয় গাছ লাগানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় আক্ষেপ করেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তবে এখনও সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
“বাড়ির চারপাশে ৪ ফুট খালি জায়গা রাখার আইন থাকলেও কেউ তা মানে না। এ কারণে গাছ লাগানোর জায়গা নেই। তবে যেটুকু আছে তাতে ছোট ছোট গাছ লাগানো সম্ভব।”
নগরে বৃক্ষরোপণের সময় ফলদ গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন প্রকৃতিপ্রেমী দ্বিজেন শর্মা। বনের বিচিত্র গাছগুলোকেও শহরে নিয়ে আসার পরামর্শও দেন তিনি।
“আমাদের বনে খুবই সুন্দর সুন্দর গাছ রয়েছে। কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে তা হারিয়ে যাচ্ছে। সেসব গাছ শহরের সড়কে লাগালে একদিকে শহরের সৌন্দর্যবৃদ্ধিও হবে, আবার গাছগুলোও টিকে থাকবে।”
কর্মশালায় উত্তরা এলাকার বিভিন্ন সেক্টর কল্যাণ সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশেনর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহুল ইসলাম, ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন খান, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর শাহনাজ পারভিন মিতু বক্তব্য রাখেন।
কর্মশালায় বাড়িতে গাছ লাগানোর পদ্ধতি, গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়, গাছের পরিচর্যার সঠিক নিয়ম এবং রাজধানীর কোথায় কোথায় ভালো গাছ পাওয়া যায় সেসব বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।


