রাজধানীর মেরুল বাড্ডার একটি স্কুল থেকে সন্দেহভাজন ১৮ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
বাড্ডা থানার ওসি এম এ জলিল বলেন, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ‘গোপন বৈঠক করছে’ খবর পেয়ে শুক্রবার ভোরে পুলিশ ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যাণ্ড কলেজে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্টের ৮ নম্বর সড়কের ২৫ নম্বর হোল্ডিংয়ে ছয়তলা ওই বাড়ির তৃতীয় ও ষষ্ঠ তলা ছাড়া বাকি ফ্লোরগুলো স্কুল ও কলেজের কাজে ব্যবহৃত হয়।
ষষ্ঠ তলায় বাড্ডা থানা জামায়াতের আমির ফখরুদ্দিন কেফায়েত উল্লাহ এবং তৃতীয় তলায় বাড়ির মালিক বেলাল হোসেন থাকেন।
ওসি জলিল জানান, যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত আমির মতিউর রহমান নিজামীর স্ত্রী শামছুন্নাহার নিজামী ওই স্কুলের অধ্যক্ষ।
শামছুন্নাহার জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগেরও সেক্রেটারি।
তাকেও আটক করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওসি বলেন, “তিনি স্কুলের অধ্যক্ষ, কিন্তু ঘটনার সময় তিনি ছিলেন না।”
আটকদের মধ্যে বাড্ডা থানা জামায়াতের আমির ফখরুদ্দিন ও ভবন মালিক বেলালও রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, বাড়ি ভাড়া দেওয়ার সময় নিয়ম মেনে সব তথ্য নেওয়া হয়েছিল কি না- তা জানতে বেলালকে আটক করা হয়েছে।
ফখরুদ্দিনের স্ত্রী ও দুই মেয়ে এবং বেলালের স্ত্রী ও মাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে তারা ‘আটক নন’ বলে জানিয়েছেন ওসি।
ওই ভবন থেকে কোনো কিছু জব্দ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
দশম জাতীয় নির্বাচন এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার ঘিরে সারা দেশে নাশকতার বিভিন্ন ঘটনায় বহু মামলা রয়েছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
জঙ্গি কর্মকাণ্ডে গ্রেপ্তার ও পুলিশের তালিকায় নাম আসা অনেকে অতীতে শিবিরের সঙ্গে ছিলেন বলেও তথ্য এসেছে সাম্প্রতিক সময়ে।
চলতি মাসের শুরুতে চট্টগ্রামে আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সদস্য সন্দেহে পাঁচ যুবককে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলেছে, ছাত্রশিবির এখন জঙ্গি সংগঠনের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে রয়েছে।


