পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী ও বাম রাজনৈতিক দলের কর্মী নিহত আফসানা ফেরদৌসের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক আবুল খায়ের মো. শফিউজ্জামান। আফসানা ফেরদৌস আত্মহত্যা করেছেন বলেই আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এই ডাক্তারের।
রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।
তবে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে বলে জানান ময়নাতদন্তকারী এই চিকিৎসক।
নিহত আফসানা মিরপুরের শেওড়াপাড়ার সাইক পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলেন। ১৩ আগস্ট মিরপুরের আল হেলাল হাসপাতাল থেকে বেওয়ারিশ হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার গলায় কালো রঙের একটি গভীর দাগ দেখা যায়।
এদিকে আফসানার মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগ নেতা হাবীবুর রহমান রবিনকে এ হত্যার জন্য দায়ী করা হয়। আফসানার পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলের সহকর্মীরা রবিনকেই আফসানার হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে।
রাজধানীতে আফসানার রাজনৈতিক সহকর্মী ও ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রামের বাড়িতে তার হত্যাকারী রবিনসহ দোষীদের গ্রেফতারে মানববন্ধনসহ প্রতিদিনই বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হচ্ছে।
এমন অবস্থায় আফসানা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন।
এদিকে আফসানার সঙ্গে রবিনের গোপনে বিয়ে হয়েছে বলে একটি সূত্র জানায়। মানিকদির বাসার মালিক ও আশপাশের লোকজন আফসানা ও রবিনকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই জানতো। রবিন প্রায়ই ওই বাসায় যেত।
বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তার (আফসানা) মামা হাসানুজ্জামান মিন্টু বলেন, বিষয়টি আমি নিশ্চিত নই। প্রতিবেশীদের কাছে শুনেছি আফসানা ও রবিন বিয়ে করেছে। মিন্টুর দাবি, আফসানাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার আগে তাকে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়। সে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করেছিল। কিন্তু সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ এগিয়ে যায়নি।
আফসানার আরেক মামা ও ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক তৌফিক ইলাহী বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে রবিন ও তার বন্ধুরা জড়িত। এখনও অপরিচিত মোবাইল থেকে আফসানার আত্মীয়-স্বজনদের সমঝোতার প্রস্তাব ও বাড়াবাড়ি না করতে হুমকি দেয়া হচ্ছে।
আফসানার ভাই ফজলে রাব্বী জানান, আফসানা তেজগাঁও এলাকায় থাকার সময় রবিনের সঙ্গে প্রেম হয়। একপর্যায়ে সম্পর্ক ভেঙে গেলে তেজগাঁও ছেড়ে চলে যায় আফসানা। ঘটনার ১০ দিন আগে দু’জনের পরিচিত বন্ধুরা আবার তাদের এক করে দেয়। মৃত্যুর দু’দিন আগে পুনরায় সম্পর্ক ভেঙে দেন আফসানা। এ নিয়ে আফসানাকে দেখে নেয়ারও হুমকি দেয় রবিন। এর দু’দিন পরই তার মৃত্যু হল। তবে রবিনের সঙ্গে আফসানার বিয়ে হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
আফসানার পরিবার জানায়, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রবিনের নেতৃত্বে আফসানাকে হত্যা করা হয়। তারা আজ বা কাল রবিনকে আসামি করে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করবেন।
কাফরুল থানার ওসি সিকদার মোহাম্মদ শামীম হোসেন বলেন, বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তাদের স্বজনরা কেউ হত্যা মামলা করতে আসেননি। ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


