বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পিটুনি খেয়ে ধর্মঘটের ডাক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে

Jagannath Unuversityকারাগারের জায়গায় আবাসিক হল নির্মাণের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মিছিলে পুলিশের বাধা দেয়ার প্রতিবাদে একই দাবিতে মঙ্গল ও বুধবার দুইদিনের ধর্মঘট ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা।

হল নির্মাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট ঘোষণা পেলেই তারা এই ধর্মঘট প্রত্যাহার করবেন বলে জানিয়েছেন।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল শিক্ষার্থীদের। এ জন্য শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। এরপর সাড়ে নয়টার দিকে তাঁরা মিছিল নিয়ে বের হন। মিছিলটি এগোতে থাকলে বিভিন্ন সড়কে পুলিশ বাধা দেয়।

জজ কোর্ট এলাকায় প্রথম ব্যারিকেড ভাঙেন শিক্ষার্থীরা। এরপর রায় সাহেব বাজার মোড়ে।

মিছিলটি নয়াবাজার মোড় পেরিয়ে বংশাল রোডের দিকে এলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল, রাবার বুলেট, জলকামান থেকে পানি ছিটিয়ে ও লাঠিপেটা করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। তাঁদের মধ্যে তৌফিক এলাহী ও মিথুন রায় নামের দুই শিক্ষার্থীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীরা ইংলিশ রোডের মাথায় বিক্ষোভ করতে থাকেন। বেলা দুইটার দিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষে ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়া হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রায়সাহেব বাজার ও নয়াবাজারে মিছিলে কাঁদানে গ‌্যাসের সেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। তাঁতীবাজার এলাকায় মিছিলে লাঠিপেটার পাশাপাশি গুলিও চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর কাঁদানে গ‌্যাসের সেল নিক্ষেপ করার কথা স্বীকার করলেও গুলি চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও দাবি করছে পুলিশ।

দাবি আদায়ে সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে কয়েক দফা বিক্ষোভ মিছিলও করে আন্দোলনরত শিক্ষার্ধীরা। এর আগে দুই দিন ক্যাম্পাসে ছাত্র ধর্মঘট পালনের পর সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

জগন্নাথের শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার আদালতপাড়াসহ সর্বত্র নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জনসন রোড, ইংলিশ রোড ও রায় সাহেব বাজার মোড় এলাকায় গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, শাখারীবাজার ও রায়সাহেব বাজার মোড়ে পুলিশ তাদের বাধা দিলেও তারা তা উপেক্ষা করে। তাঁতীবাজার এলাকার বংশাল মোড়ে পৌঁছানোর পর পুলিশ সদস্যরা ফাঁকা গুলি, টিয়ার শেল ছোড়ে। এসময় লাঠিচার্জ করা হয়। তারপর তারা নয়াবাজারে ফিরে অবস্থান নেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম নয়ন বলেন, “পুলিশ গুলি ছুড়েছে। একাউন্টিং বিভাগের ১০ম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমনা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আরও অনেকে আহত হয়েছেন।”

এ প্রসঙ্গে কোতয়ালী থানার কর্তকর্তা শাহেনশাহ বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছি।তবে গুলি করিনি।পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে।”

এর আগে বুধবার শিক্ষার্থীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও করতে গেলে পুলিশের বাধা পেয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে তারা ক‌্যাম্পাসে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয়।

২০০৫ সালে অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানের ১১টি হল প্রভাবশালীদের দখলে ছিল। ২০০৯ সালে বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনে সরকারের উচ্চ মহলের টনক নড়ে। ওই সময় একাধিক হল বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ থাকলেও তা কার্যকর করেনি ঢাকা জেলা প্রশাসন।

পরে ২০১১ ও ২০১৪ সালে জোরালো আন্দোলনে দুটি হল পুনরুদ্ধার হলেও তা ব্যবহার উপযোগী করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আরেকটি হল আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলে থাকলে তা নিয়ে নেই কোন পরিকল্পনা; নতুন দুটি হল নির্মাণের উদ্যোগেও রয়েছে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ। ১৯৮৫ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে জগন্নাথের ৮টি হল বন্ধ হয়ে যায়।

গত ২ আগস্ট থেকে সেই মন্ত্রণালয়ের অধীন নাজিম উদ্দিন রোডে পরিত্যক্ত কারাগারের জমিতে হল নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। জমিটি পেতে ২০১৪ সালের মার্চে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে আবেদন করেছিল।

এবারে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জায়গাটির জন্য গত ১৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য মীজানুর রহমান।

আরও পড়ুন