বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ফেসবুকে মিথ্যাচার এসপি বাবুলের: তদন্তেও অসহযোগিতা

babul-akter-wifeস্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই তার স্বামী এসপি বাবুল আক্তারের। বরং চাঞ্চল্যকর এ খুনের মামলার তদন্তে সহযোগিতার বদলে অসহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ স্বয়ং তদন্ত কর্মকর্তার।

মিতু হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. কামরুজ্জামান সোমবার টেলিফোনে বলেন, মামলা দ্রুত তদন্তের জন্য বাদীর যে সহযোগিতা প্রয়োজন এক্ষেত্রে তা পাওয়া যাচ্ছে না।

তদন্তের প্রয়োজনে বাদীর (বাবুল আক্তার) সঙ্গে বিভিন্ন সময় যোগাযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু বাদী বাবুল আক্তার নিজ থেকে কখনও যোগাযোগ করছেন না। প্রায় একই ধরনের অভিযোগ চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহারের।

সোমবার টেলিফোনে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে বাবুল আক্তারের সঙ্গে আমার ও তদন্ত কর্মকর্তার একাধিকবার কথা হয়েছে। কিন্তু গত আড়াই মাসে বাবুল আক্তার নিজ থেকে মামলার খোঁজ নেননি।

এদিকে স্ত্রীর ঘাতকদের গ্রেফতারে সহযোগিতার বদলে তিনি এখন বেশি তৎপর তার চাকরি ফেরত পেতে। মাঝে মধ্যেই ধরনা দিচ্ছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে। সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন।

তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলেও সংশ্লিষ্টদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু তার এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আইজিপি একেএম শহীদুল হক। তিনি রোববার যুগান্তরকে বলেছেন, ‘পদত্যাগে বাধ্য করার প্রশ্নই ওঠে না, পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে বাধ্য করা যায় না।’ তিনি (বাবুল) স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান সোমবার টেলিফোনে বলেছেন, বিষয়টি এখন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের পদত্যাগ ও তা প্রত্যাহার সংক্রান্ত দুটি পত্রই প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে। নিয়মানুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর দফতর হয়ে এ সংক্রান্ত ফাইল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। জবাব এলেই মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বলে সিনিয়র সচিব জানান।

প্রসঙ্গত, সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবরে ২৪ জুন চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে এবং ৯ আগস্ট তা প্রত্যাহারে দুটি পৃথক আবেদন করেন এসপি বাবুল। অব্যাহতি প্রত্যাহারের আবেদনে তিনি দাবি করেন, ‘পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাধ্য হয়ে আমি অব্যাহতিপত্র স্বাক্ষর করেছি। এটি আমি স্বেচ্ছায় দাখিল করিনি।’ এছাড়া বাবুল আক্তার ৪ আগস্ট পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (প্রশাসন) বরাবরে কাজে যোগদান করতে আরেকটি পত্র দেন।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু নিহত হওয়ার পর সাধারণ মানুষের সহানুভূতিকে পুঁজি করে নানারকম বিভ্রান্তির আশ্রয় নিচ্ছেন এসপি বাবুল আক্তার। ওই ঘটনার পর তার প্রতি সাধারণ মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অযৌক্তিক মিথ্যাচার করছেন।

তার বড় প্রমাণ, সোমবার সকালে ফেসবুকে তার নিজ পেজে দেয়া একটি স্ট্যাটাস। সোমবার দৈনিক যুগান্তরে ‘পদত্যাগ নিয়ে ধোঁয়াশা’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট নিয়ে তিনি ওই স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি দাবি করেন, যুগান্তরের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের সঙ্গে তার কোনো কথা হয়নি। প্রতিবেদনটি প্রসঙ্গে সোমবার রাতে হাতে লেখা এক বার্তায়ও তিনি একই দাবি করেন।

কিন্তু প্রকৃত তথ্য হচ্ছে, রোববার দুপুরে রাজধানীর মেরাদিয়ার শ্বশুর মোশাররফ হোসেনের বাসায় তার (বাবুল) সঙ্গে কথা হয় যুগান্তরের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের। যার প্রমাণ যুগান্তরের কাছে সংরক্ষিত আছে।

প্রসঙ্গত, ৫ জুন স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু নির্মমভাবে খুন হওয়ার পর থেকেই এসপি বাবুল আক্তারকে নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক।

বিশেষ করে ৫ জুন স্ত্রী খুন হওয়ার ১৯ দিনের মাথায় (২৪ জুন) হঠাৎ করেই বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা কার্যালয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় এ বিতর্ক। মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি কিংবা ঘাতকদের গ্রেফতার নিয়ে তেমন আলোচনা না হলেও বাবুল আক্তারের কর্মস্থলে যোগ দেয়া নিয়ে শুরু হয় নানা বিতর্ক। তবে চারদিকে যখন বিতর্ক বাবুল আক্তার তখনও থেকেছেন নিশ্চুপ।

আরও পড়ুন