কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর হওয়া ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। হক বলেছেন, কেরানীগঞ্জে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কারাগার পরিকল্পনায় ত্রুটি রয়েছে। ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও বাইরে দর্শনার্থীরা কষ্ট পাচ্ছেন। এখানে নেই কোনো অভ্যর্থনা কক্ষ।
সোমবার বিকালে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
কাজী রিয়াজুল হক বলেন, কারাগারে টয়লেটের সমস্যা প্রকট। হাজতিদের নামাজ আদায়ের জন্য কোনো মসজিদও নির্মাণ করা হয়নি। বড় গাড়ি ভেতরে ঢুকতে পারে না। এতে পিডব্লিউডি’র ব্যর্থতা রয়েছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান বিকাল ৪টায় এসে পৌঁছলে কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে অভ্যর্থনা জানান। পরে একদল চৌকস কারারক্ষী তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এরপর তিনি কারাগারের বাইরের স্থাপনা ঘুরে দেখেন। কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করে বন্দিদের সঙ্গেও কথা বলেন।
কারাগার থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, বন্দিদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। থাকার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও খাবারের মান নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। এছাড়াও সঠিক সময়ে খাবার সরবরাহ করা হয় না বলে বন্দিরা অভিযোগ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে আরও যত্নবান এবং আন্তরিক হতে হবে। এগুলো নিয়ে আমরা সরকারের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেব।’
কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘এখানে যারা থাকেন তারা রাষ্ট্রীয় মেহমান। যতক্ষণ পর্যন্ত আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত না হবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে দোষী বলা যাবে না। তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে। ‘
তিনি বলেন, পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের চেয়ে এখানকার পরিবেশ অনেক ভালো। কারা হাসপাতালে পর্যাপ্ত সেবা পাওয়া যাচ্ছে। তারপরও অনেক সমস্যা রয়েছে। মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে, তবে সেটা নিম্নমাত্রায়।
মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, যারা জামিন পাচ্ছেন দ্রুত তাদের এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। কাউকে অনর্থক আটকে রেখে রাষ্ট্রীয় অন্ন ধ্বংস করার কোনো অর্থ হয় না। যেসব বিদেশী গুরুতর অপরাধে জড়িত নয় তাদের নিজ দেশে দ্রুত ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কমিশনের সদস্য মো. নজরুল ইসলাম, ঢাকা জেলা সিনিয়র জজ বেগম নুরুন্নাহার ওসমানি, অতিরিক্ত আইজিপি ইকবাল হাসান, কারাগারের জেলার নেছার আলম।


