চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সার কারখানায় দুর্ঘটনার পর অ্যামোনিয়া-মিশ্রিত পানি নালা ও খাল হয়ে কর্ণফুলী মোহনার দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। গাঢ় বাদামি রঙের পানি নালা ও খালের যে অংশে প্রবাহিত হচ্ছে, সেখানে মাছসহ জলজ প্রাণী মরে ভেসে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যামোনিয়া-মিশ্রিত এই পানি নদীতে পড়লে খুব বেশি ক্ষতি হবে না। কারণ পানির পরিমাণ যত বাড়বে, ততই অ্যামোনিয়ার মাত্রা কমে যাবে।
গত সোমবার রাতে আনোয়ারা উপজেলার রাঙাদিয়া গ্রামে ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানার ১ নম্বর ইউনিটে তরল অ্যামোনিয়া গ্যাসের একটি ট্যাংক বিকট শব্দে ফেটে যায়। দুর্ঘটনার পর অ্যামোনিয়া গ্যাসের তীব্রতা কমানোর জন্য ট্যাংকের সামনে পানি ছিটিয়ে দেয় ফায়ার সার্ভিস। এই পানি কোনো পরিশোধন ছাড়াই নালায় পড়ে। অ্যামোনিয়া দ্রুত পানির সঙ্গে মিশে দ্রবীভূত হয়ে যায়।
গতকাল বুধবার সার কারখানার মূল ফটকের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ওই নালা ঘুরে দেখা যায়, নালায় মাছ, সাপসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মরে ভেসে উঠেছে। নালার দুপাশে ঝোপঝাড় ধূসর হয়ে গেছে। পানির রংও গাঢ় বাদামি হয়ে গেছে। নালার পাশের মৎস্য খামারের মাছও মরে ভেসে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নালার পানি পারকি খাল হয়ে কর্ণফুলী মোহনায় পড়ছে।
গত মঙ্গলবার ঘটনাস্থল থেকে বাতাসের নমুনা ও নালার পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশ অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ রসায়নবিদ কামরুল ইসলাম গতকাল বলেন, দুর্ঘটনাস্থলের ১৭০ মিটার দূর থেকে সংগ্রহ করা বাতাসের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বাতাসে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ ৯২ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন)। মানুষের জন্য অ্যামোনিয়া গ্যাসের সহনীয় মাত্রা ২৫ পিপিএম। দুর্ঘটনাস্থলের পাশের নালার পানির নমুনায় পিএইচের (পানিতে অম্ল ও ক্ষারের পরিমাপক) মাত্রা ৯-এর বেশি পাওয়া গেছে। পানিতে পিএইচের স্বাভাবিক মাত্রা ৬ থেকে ৯। তবে আশপাশের পুকুরের পানি স্বাভাবিক হয়ে আসছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় দীর্ঘমেয়াদি কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা জানার জন্য এক মাস পর আবার ওই এলাকার পানি ও বাতাসের নমুনা পরীক্ষা করা হবে।
গতকাল কারখানার ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, কারখানার ভেতরে সড়কের দুপাশে লাগানো শতাধিক গাছের পাতা পুড়ে ধূসর হয়ে গেছে। নিচের ঘাসও বিবর্ণ হয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত ও পরিবেশ রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, দুর্ঘটনার পরপর অ্যামোনিয়া গ্যাসের ঘনমাত্রা বেশি ছিল। এ কারণে কারখানাস্থলের গাছের পাতা ও ঘাস পুড়ে গেছে। একইভাবে শুরুতে নালা ও খালে ছড়িয়ে পড়া পানিতে অ্যামোনিয়ার ঘনমাত্রা বেশি থাকায় মাছসহ জলজ প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পানি নদীতে পড়লে খুব বেশি ক্ষতি হবে না। কারণ পানির পরিমাণ যত বাড়বে, ততই এর মাত্রা কমে যাবে। কর্তৃপক্ষের উচিত, নালায় আরও বেশি পানি প্রবাহিত করা। একইভাবে গাছে পর্যাপ্ত পানি দেওয়া উচিত। তাহলে গাছগুলো বাঁচানো যাবে।



Leave a Reply