দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কয়েক শ তরুণ-তরুণী সাগরপথে মালয়েশিয়ায় গিয়ে গত তিন বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন লাশ হয়ে দেশে ফিরেছে। বাকি নিখোঁজদের পরিবারগুলো চরম উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা দিন কাটাচ্ছে।
এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের কপোতাক্ষ নদ উপত্যকার বন্যাকবলিত এলাকার সাতটি ইউনিয়নের বেশির ভাগ মানুষ দরিদ্র এবং তাদের বড় একটি অংশ বেকার তরুণ-তরুণী। তাদের বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে অসাধু দালালচক্র ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে গত কয়েক বছর ধরে কয়েক শ তরুণ-তরুণীকে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচার করে। মালয়েশিয়া যাওয়ার পর থেকে তাদের বেশির ভাগই নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছে উপজেলার মশ্বিমনগর গ্রামের আমানউল্লাহ, কামরুল জামান, কামাল হোসেন, সোহেল খান, চাকলা গ্রামের সারাত আলী, হাসানুর রহমান, মলিকপুর গ্রামের ইকবাল হোসেন, খালিয়া গ্রামের তহিদুল ইসলাম, মোবারকপুর গ্রামের পীর বক্স, তপন, কিসমত চাকলা গ্রামের শাহ আলম, হাসান আলী, ফারুক হোসেন, সুমন হোসেন, শৈল গ্রামের মাসুদুর রহমান, শিমুল হোসেনসহ প্রায় শতাধিক তরুণ। তাদের মধ্যে লাশ হয়ে দেশে ফিরেছে এনায়েতপুর গ্রামের রুবেল হোসেন, সেলিম হোসেন, রবিউল ইসলাম, চণ্ডিপুর গ্রামের বজলুর রহমানের স্ত্রী সাইফুন নেছা, মাহবুবুর রহমান, রাজগঞ্জ এলাকার আশিকুর রহমান প্রমুখ।
কথা হয় মশ্বিমনগর গ্রামের মালয়েশিয়াগামী নিখোঁজ কামাল হোসেনের স্ত্রী ও মা-বাবার সঙ্গে। এ সময় তাঁর তিন সন্তান, স্ত্রী ও মা-বাবার আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
কামালের বৃদ্ধ বাবা মহাতাপ আলী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘প্রায় তিন বছর আগে পার্শ্ববর্তী হযরত আলীর ছেলে আশরাফুল ও রবিউল আমার কামালকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে গেছে। আজও আমার কামালের কোনো খোঁজ পাইনি।’
শৈলী গ্রামের নিখোঁজ শিমুলের বাবা ছয়রুদ্দীন বলেন, ‘ডুমুরখালী গ্রামের খোরশেদ আলীর ছেলে বাবলু আমার ছেলেসহ আটজনকে আকাশপথে মালায়েশিয়ায় নেবে বলে চুক্তি করে পানিপথে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে সেলিম নামের একজন মারা গেছে। আজ প্রায় তিন বছর হয়ে গেল আমার ছেলে শিমুলের কোনো সন্ধান পেলাম না। দালাল বাবলু বলেছে, তারা ভালো আছে।’
মশ্বিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, এ ইউনিয়ন থেকে পানিপথে মালায়েশিয়া যাওয়ার পথে অন্তত ২০ যুবক নিখোঁঁজ রয়েছে। হরিহরনগর ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ গাজী আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এ এলাকার হতদরিদ্র মানুষগুলো দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে পানিপথে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে। এ নিয়ে আমার পরিষদে সালিস বিচারও হয়েছে।’
মণিরামপুর থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ বলেন, মানবপাচার মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন আছে।


