বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

থানা থেকে এসেছি, আমরা ছাত্রলীগ করি, নিচে আসেন

Mahmuda apaমাহমুদা চৌধুরী।

আজ ঠিক দুপুরবেলা। ভূতে যখন মারে ঢেলা। কলিংবেল বেজে উঠল।

ফ্লাটের দরজা খুলে বললাম কে?
নিচের তলা থেকে আওয়াজ এল ‘নিচে আসেন। রমনা থানা থেকে এসেছি।’

পেটে খিদে চরচর করছে। থানা থেকে? এই শুনশান সময়ে? বিরক্ত ও টেনশন নিয়ে নিচে নেমে দেখি। ২২/২৩ বছর বয়সের দুটি তরুন। চেহারা সুরত দেখে মনে হল নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান। নতুন পয়সা জেল্লা লেগেছে গায়ে গতরে।

পুলিশ?
উত্তর এল ‘না’।
তবে?
‘আমরা ছাত্রলীগ করি। থানা থেকে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে এলাকার বাড়ির ভাড়াটেদের তালিকা করতে।’

আশ্চর্য। থানায় তো তালিকা দিয়ে এসেছি। আবার আপনারা কেন?

ভয়ে গা শিরশির করে উঠল। এরা কে? চিনি না। জানি না। কোনও বৈধ পরিচয় পত্র ছাড়া শুধুমাত্র মৌখিক ছাত্রলীগ পরিচয়ে কি আমি আমার বাসার গোপন তথ্য দিতে পারি। হাতে একটা খাতার ছেড়া পাতা। তাতে আমার ফোন নম্বর লিখে নিল জরুরী যোগাযোগের জন্য। আর বাড়ি ঘরের তথ্য।

দুঃখ হল। কলেজ রেখে কেন ছাত্ররা এসব হীনকাজে নেমেছে? ছাত্রদের শিক্ষা সংস্কৃতি চর্চার বদলে শিক্ষামন্ত্রী কেন ছাত্রলীগকে থানা পুলিসের মত জটিল বীভৎস ধারার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন? ছেলেবেলায় আদর্শলিপি পড়েছিলাম ‘ছাত্রনং অধ্যায়ণং তপঃ’।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক সরকারের কাছে প্রত্যাশা ছিল যে একমাত্র তারাই ছাত্রদের ক্লাস রুমে ফিরিয়ে আনবেন।

অনেক আগে বিটিভিতে দেখা ‘ সাউন্ড অব মিউজিক’ ছবির কথা মনে পড়ে গেল। হিটলারের নাৎসিবাদী শাসনামলে অল্প বয়সী ছেলেদের দিকভ্রান্ত করা হয়েছিল ঠিক এভাবেই।

সরকারের কাছে একান্ত আবেদন। দোহাই লাগে আমাদের কোমলমতী সন্তানদের জ্ঞানার্জনের আকাঙ্খা জাগিয়ে শিক্ষালয়ের মধ্যে রাখুন। এই ধরনের হীন কাজে ঠেলে দিবেন না।
(জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহমুদা চৌধুরীর ফেসবুকে লেখা পোস্ট)

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *