বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

জিয়ার স্বাধীনতা পদক বাতিল করা এতো সহজ নয়

Zia sadhinnota podok

বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক ফেরত নেয়ার বিষয়টি এত সহজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, কারণ তাকে তার অবদানের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছিলো। সেই পুরস্কার এত বছর পরে এসে সরকার বাতিল করতে চাইছে, এটা ঠিক না।

মির্জা ফখরুল বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার, স্বাধীনতার ঘোষক। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবদান অপরিসীম। তার অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। কিন্তু সরকার তার ইতিহাস মুছে দিতে চাইছে। এই জন্য সরকার এখন তাকে দেওয়া পুরস্কারও ফিরিয়ে নিতে চাইছে।

তিনি বলেন, তার পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত আমরা এখনও জানি না। তবে একটি গণমাধ্যমে দেখিছি। ওই রিপোর্টটি দেখার পর আমরা জানার চেষ্টা করেছি। খুব গোপনেই নাকি সরকার সেটা করছে।

ফখরুল বলেন, এই সরকার মনে করে কেবল তাদের দলের লোকেরাই এই দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছে আর বিএনপির কেউ অংশ নেয়নি। সত্য ইতিহাসকেও মুছে ফেলতে চাইছে। এই সব করে সরকার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার যে অবদান এই দেশ স্বাধীন করার জন্য সেই ইতিহাস মুছে ফেলা যাবে না।

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থেকে ধরাকে সড়া জ্ঞান করছে। বিএনপির নাম মুছে ফেলতে চাইছে, নিমূর্ল করতে চাইছে এটা যে একটা ষড়যন্ত্র সেই ষড়যন্ত্রের অংশ এটাও। কারণ সরকারের মনে ভয় যে যদি জাদুঘরে ওই পুরস্কার থাকে তাহলে ওই ইতিহাস চিরদিন থাকবে। তাই এখন ঠিক করেছে জাদুঘর থেকে পুরস্কার সরিয়ে নিলে ইতিহাস মুছে যাবে। বইয়েতো সরকার ইতিহাস বিকৃত করেছে আগেই। মিথ্যে ইতিহাস জাতিকে পড়াচেছ। বিষয়গুলো কতটা নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিচ্ছে সরকার সেটা দেখলে অবাক লাগে।

তিনি বলেন, আমরা আশা করবো পদক বাতিলের ব্যাপারে সরকারের কেউ কেউ এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিলেও সরকার প্রধান এই ব্যাপারে তাদেরকে উৎসাহিত করবেন না এবং পদক বাতিলের কোন সিদ্ধান্ত অনুমোদন দিবেন না। প্রকৃত ইতিহাসটা সব সময় থাকা উচিত। এখন তারা ইতিহাস মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। মনে করছে সারাজীবন তারাই থাকবে। এই পরিকল্পনাতো সফল নাও হতে পারে। তখন কি এই মুছে ফেলা ইতিহাস ফিরে আসবে না।

বিএনপির প্রথম যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সরকারের কিছু কর্মকান্ড তাদেরকে বিতর্কিত করে চলেছে। এখন তারা এতটাই নীচু স্তরের কাজ করছে যে একজন নেতা স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখার জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন সেটাও বাতিল করতে চাইছে। আবার জাদুঘর থেকে সরাতে চাইছে। তাদের কি সেই ক্ষমতা আছে। একবার স্বাধীনতা পদক যখন দেওয়া হয় তখন তা বিভিন্ন দিক যাচাই বাছাই করেই দেওয়া হয়। এই জন্য কমিটিও থাকে। সেখানে সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়ে পুরস্কার দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত মনে হলো আর পরের সরকার এসে বাতিল করে দিলো এমন হতে পারে না। এই সরকারের জিয়াউর রহমানের পদক বাতিল করার ক্ষমতা নেই।

বিচাপরতি এ বি এম খায়রুল হকের রায়ের আলোকেই এটা সরকার করতে যাচ্ছে এই ব্যাপারে তিনি বলেন, খায়রুল হকের রায় ছিলো পঞ্চম সংশোধনী সংক্রান্ত। সেটা তিনি অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করেছেন। সেখানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ভূমিকার জন্য পদক বাতিল করতে হবে এমন কোন কথা নেই। তাহলে এটা কেন বাতিল করা হবে। আসলে সরকার পদক প্রদানের বিষয়টিও নিয়েও রাজনীতি করছে। তাদের ভাবখানা এমন কেবল তারা যে নিজেদের লোকদের পুরস্কার দিবে সেটাই বৈধ। আর অন্য কেউ দিলে তা বৈধ হবে না। সেটাতো হতে পারে না।
তিনি বলেন, সরকার যদি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয় তা খুব খারাপ হবে। এটা আমরা কোন ভাবেই মেনে নেব না। জনগণও মেনে নিবে না।

তিনি বলেন, এই সরকারের আমলে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ দিয়ে যারা চাকরি নিয়েছিলেন তাদের বিচার করা হয়নি। তাদেরকে চাকরি থেকে বিদায় দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ দিয়ে চাকরি করছেন। সরকার তাদের কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না ও কাউকে গ্রেফতার করছে না। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার পদক কেড়ে নেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে গেছে। এগুলো করার কোন ক্ষমতা জনগণ সরকারকে দেয়নি। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। তাদের আমলে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছিলো। তাদের কারো কারো নামও বাদ দেওয়া হয়েছে। সেগুলো নিয়ে সরকার ব্যবস্থা নিক।

মুক্তিযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট জিয়উর রহমান অবদান নিয়ে সরকারি দলের মনের ভেতরে নানা ভয় কাজ করলে জনগণ তা জানে। এইগুলো করে সরকার প্রকৃত ইতিহাস মুছতে পারবে না। সরকারের মনে রাখা উচিত এখন তারা যে সব কাজ করছে ওই সব কাজ বিএনপি তাদের জন্য করলে তখন তাদের অবস্থা কি হবে? এটিও ভেবে দেখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকার যদি পদক বাতিল করে ও জাদুঘর থেকে সরিয়ে নেয় তা সরকারের জন্য ক্ষতি বয়ে আনবে।

আরও পড়ুন