বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

খালেদা জিয়া রামপাল ইস্যু হাইজ্যাক করেছেন

Hasan-mahmud-mp 26-08-16বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কোনো ইস্যু খুঁজে না পেয়ে এখন অন্যের ইস্যু হাইজ্যাক করার চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ডা. হাছান মাহমুদ।

শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বিরোধিতাকারী তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির ইস্যুকে হাইজ্যাক করে এর ওপর আশ্রয় নিয়ে তিনি রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।’

গত বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প সম্পর্কে খালেদা জিয়ার দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘একজন ম্যাট্রিক ফেল মহিলা যেভাবে বিশেষজ্ঞের মত কথা বলেছেন, তাতে আমরা আতঙ্কিত। কেননা অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী। বিএনপি চেয়ারপারসনও রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে মনগড়া বক্তব্য ও ভুল তথ্য দিয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ফরিদুন্নাহার লাইলী, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, আমিনুল ইসলাম আমিন, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি এখন একটি পরগাছা দল। পরগাছা যেমন অন্য গাছের ওপর জন্মায়, বিএনপিও তেমনি অন্যের ইস্যুকে হাইজ্যাক করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলছেন, রামপাল প্রকল্পের কারণে সুন্দরবন ফ্লাইঅ্যাশে ভরে যাবে, সালফার ডাই-অক্সাইডে বিষাক্ত হবে, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডে সেখানকার বাতাস ভারি হয়ে যাবে, পশুর নদীর পানি গরম হয়ে যাবে ইত্যাদি, ইত্যাদি।’

এসময় তিনি বলেন, ‘মনগড়া বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করবেন না। নতুন করে গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করবেন না।’

রামপাল প্রকল্পের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘রামপাল প্রকল্প সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার ও ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবিস্থিত। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো কৃষিজমি ও বসতবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়নি। কেবল ১৫০টি স্থাপনা পুর্নবাসন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে  উন্নত প্রযুক্তির ইএসপি সিস্টেমে প্রায় শতভাগ ফ্লাইএ্যাশ, ৯৬ ভাগ সালফার ডাই অক্সাইড এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

ফ্লাইঅ্যাশ দেশের সিমেন্ট কারখানায় ব্যবহৃত হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘যারা এ নিয়ে আন্দোলন করেন তাদের অনেকে সঠিক তথ্য না জেনে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে অনেক ভুল তথ্য উপস্থাপন করছেন। প্রকল্পের কারণে নদী শুকিয়ে যাওয়া দূরে থাক, প্রকৃতপক্ষে শুষ্ক মৌসুমে শুন্য দশমিক শুন্য পাচ ভাগ পানি ব্যবহার করা হবে এবং এই পানিও কুলিং সিস্টেমে ঠাণ্ডা করে আবার নদীতে ফেরত দেওয়া হবে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া তার আমলে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়াতে পারেননি। বরং বিদ্যুৎখাতে দেশের ২১ হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। আর আওয়ামী লীগের আমলে দেশের ৭৮ ভাগ লোক বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। ২০০৯ সালে এ দেশে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হতো। আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে সাত বছরে সেটি বেড়ে প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াটে পরিণত হয়েছে।’

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আন্দোলনের নামে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবেন না।’ বিএনপি ছাড়া অন্য আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কিন্তু অতি উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা কখনোই ভালো নয়। আপনাদের কোনো বক্তব্য থাকলে তা সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। কিন্তু এমন কোনো পরিবেশ সৃষ্টি করা যাবে না, যাতে আপনাদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে যারা দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসাবে পরিচিত করতে চায়, তাদের সুবিধা হয়।’

আরও পড়ুন