বাংলাদেশে যেমন জন কেরিকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কিন্তু ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে কেরিকে স্বাগত জানাতে যাননি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কেরিকে অর্ভ্যথনা জানান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এছাড়া নয়াদিল্লির তীব্র যানজটও দেখতে হলো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকে। সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির বিমানবন্দরের বাইরে যানজটে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে থাকেন তিনি।
ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে বৃষ্টির মধ্যে চার ঘণ্টার বেশি সময় প্রচণ্ড যানজট ছিল। ওই সময় যানবাহনের গড় গতিবেগ কমে দাঁড়ায় ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার। ভয়াবহ এই যানজটের মধ্যে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাজমহল হোটেলে পৌঁছাতে জন কেরির গাড়িবহরের প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে।
যানজটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। দিল্লির যানজট পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে বার্তা দেন কেরির গাড়িবহরের সঙ্গে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
যানজটে আটকে পড়ার খবর পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িবহরের নিরাপত্তায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অনেক সদস্য সাদা পোশাকে অবস্থান নেন। আর জন কেরির যাওয়ার পথ করে দিতে তিন মূর্তি মার্গ এলাকায় স্থাপনার কাছ থেকে যানজট দূর করা হয়।
রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে সন্ধ্যার পর শান্তিপথ-তিন মূর্তি সড়কের যানজটে যানবাহন যেন নড়ছিলই না। তবে জন কেরির গাড়িবহর যাওয়ার পথ করে দিয়ে অন্য সব দিকের সড়কে গাড়ির চলাচল আধা ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য ওই সময় সেখানে ছিলেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় ভিন্ন কথা। বাহিনীটির দাবি, জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্ট যানজটে আটকে ছিলেন না জন কেরি। তাঁকে জেড প্লাস নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরের একটি পথ পরিষ্কার রাখা হয়। এই কারণে বিমানবন্দরের সংযুক্ত সড়কগুলোতে যানজট দেখা দেয়।
গতকাল বিকেলের শুরু থেকেই দিল্লিতে টানা বৃষ্টি হচ্ছিল। টানা ২১ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিতে অনেক সড়কেই জলাবদ্ধতা দেখা যায়। আর এই জলাবদ্ধতার কারণে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়কে তীব্র যানজট হয়।
বাংলাদেশ সফর শেষে সোমবার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ভারত রওনা দেন। রাতেই ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ঢাকায় কেরির জন্য বিশেষ নিরাপত্তার পাশাপাশি যখন যে রাস্তায় গিয়েছিলেন তার বহু আগেই ওই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে শাঁ শাঁ করে কেরির মটর বহর ছুটে যায় নির্ধারিত গন্তব্যে।


