বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

জিয়া বিচার বন্ধ করেছিলো, আমরা বিচার করে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী

PM-03প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দিয়ে বাংলার মাটিতে তাদের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরা করেছি, আমরাই করে যাচ্ছি।

“বঙ্গবন্ধুর আমলে ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধী সাজাপ্রাপ্ত ছিল, ২২ হাজার মামলা হয়েছিল। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দিলেন। গোলাম আযমকে পাকিস্তান থেকে ফিরিয়ে আনা হলো। বাংলার মাটিতে তাদের প্রতিষ্ঠা করলো, তাদেরও বিচার আমরা করেছি-করে যাচ্ছি।”

বুধবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একাত্তরে স্বজনহারাদের বিচার পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন তিনি। এক্ষেত্রে যত বাধা-ই আসুক না কেন বিচার চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়ে হাসিনা বলেছেন, “এদেশের মানুষের জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে আমি প্রস্তুত।”

শেখ হাসিনা বলেন, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার এই বাংলার মাটিতে আওয়ামী লীগই করেছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সে সময় বিবিসিতে ইন্টারভিউতে খুনিরা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল । তারা বলেছিল- কে আমাদের বিচার করবে? কারণ বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলেছি। তবে আমরা বিচার করেছি, আমরাই করেছি। মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনাকে ফিরিয়ে আনবো বলেই বাংলাদেশে রাজনীতি শুরু করি। বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরা করেছি, আমরাই করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সাল থেকে দেশে ১৯টি ক্যু হয়েছে। তখন (জিয়াউর রহমানের আমলে) স্বাধীনভাবে চলার কোনো সুযোগ ছিল না, কথা বলার কোনো সুযোগ ছিল না। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। আলোচনা সভায় স্বাধীনতার জন্য তাঁর মায়ের অবদানের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো ত্যাগ স্বীকার করে দেশের মানুষের সেবা করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, রাজনীতিবিদদের জীবনে মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করাই সবচেয়ে বড় সম্পদ। এর চেয়ে বড় সম্পদ আর কিছু নয়।

দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও অর্জনে ছাত্রলীগের ঐতিহ্যবাহী ভূমিকা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগ বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম এবং জাতির প্রতিটি অধিকার আদায়ে অগ্রণী সেনানী। জাতির পিতার হাতে গড়া এ সংগঠন।

আরও পড়ুন