ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সরকারি হাসপাতালের বিনা মূল্যের ওষুধ বিক্রি করায় বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুরের সেবিকা জেনারেল হাসপাতালকে সাত লাখ টাকা জরিমানা করেছেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে আরও দুটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা করা হয়।
দুপুর ১২টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত মোহাম্মদপুরের খিলজি রোডের সেবিকা জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালান।
এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পশ্চিমবঙ্গের সরকারি হাসপাতাল ও বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে বিতরণের বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও সার্জিক্যাল সামগ্রী উদ্ধার করেন। এসব ওষুধ ও সামগ্রীর মোড়কে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আইনত দণ্ডনীয় লেখা ছিল। বিনা মূল্যের ওষুধ বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকায় হাসপাতালটির মালিক সাখাওয়াত হোসেনকে আটক করা হয়। তাঁকে তিন মাসের কারাদণ্ড অথবা সাত লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
পরে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোডের ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ব্লাড ব্যাংকে অভিযান চালান। ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নবায়ন করা ছিল না। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বাবর রোডের জনসেবা নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে দেখতে পান, অস্ত্রোপচার কক্ষের পাশে আবর্জনা রয়েছে, খাবার ও ওষুধ একই ফ্রিজে রাখা হয়েছে। এখানে প্রশিক্ষিত টেকনোলজিস্ট নেই। চিকিৎসকের সই করা খালি ব্যবস্থাপত্র রাখা হয়েছে।
বিকেল চারটা পর্যন্ত চলা এই অভিযানে র্যাব-২-এর একটি দল ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত জনসেবা নার্সিং হোম ও ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা না দেওয়া হলে আদালত দুই প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ তিনজনকে এক থেকে তিন মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, এর আগে বাংলাদেশ সরকারের ওষুধ চোরাই বাজারে পাওয়া গেলেও ভারত সরকারের ওষুধ প্রথমবারের মতো ঢাকার হাসপাতালের বিক্রয়কেন্দ্রে পাওয়া গেল। তিনি বলেন, ওই তিন প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ চারজনকে এক থেকে তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ১৭ লাখ টাকা জরিমানা দেন।



Leave a Reply