জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে দরদ ও সহানুভূতির কোনো জায়গা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেছেন, জঙ্গিবাদ নির্মূল করার প্রশ্নে কোনো সহানুভূতির জায়গা নেই। বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে, সেটাকে সবার অনুসরণ করতে হবে।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন আয়োজিত ‘জঙ্গিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ প্রতিরোধে শ্রমিক শ্রেণির কর্তব্য’ শীর্ষক শ্রমিক কনভেনশনে রাশেদ খান মেনন এসব কথা বলেন।
কল্যাণপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে জঙ্গিদের নিহত হওয়ার ঘটনায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রশ্ন তোলার বিষয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আপনারা যখন সরকারে ছিলেন, তখন অপারেশন ক্লিনহার্টে শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছিল—তাদের কি মানবাধিকার ছিল না? তারা তো জঙ্গি ছিল না। রাজনৈতিক কর্মী কিংবা সাধারণ মানুষ ছিল। ১০ হাজারের ওপরে মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। এর উত্তর কে দেবে? জঙ্গিবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে এই দরদ দেখিয়ে লাভ আছে বলে আমি মনে করি না। এখানে দরদ কিংবা সহানুভূতির কোনো জায়গা নেই। আইনের শাসন অনুসরণেরই বা সুযোগ কোথায়?’
জঙ্গি দমন নিয়ে বিএনপি নেতাদের নানা প্রশ্ন তোলাকে জঙ্গিদের প্রতি তাদের প্রীতি, সহানুভূতি এবং সমর্থন প্রকাশ পায় বলে উল্লেখ করেন মেনন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সফর নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘জন কেরি ঢাকায় এসে যে কথাটি বলার চেষ্টা করেছেন, তা হলো বাংলাদেশের জঙ্গিদের সঙ্গে আইএসের যোগসূত্র রয়েছে। আমরাও এটা কখনো অস্বীকার করিনি। আমরা বলে এসেছি, এই জঙ্গিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের আইএসআই ও অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে এই জঙ্গি দমনের নামে আজকে মার্কিনদের পা ফেলার জায়গা করে দিতে হবে।’
জঙ্গি দমনে সরকার জিরো টলারেন্সে রয়েছে উল্লেখ করে শ্রমিক কনভেনশনে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, জঙ্গি কোনো ইসলামি পন্থা কিংবা ইসলামের কোনো বিধিবিধান নয়। জঙ্গিবাদের সঙ্গে একমাত্র জংলিদের তুলনা চলে। যখন বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতেই এসব জঙ্গি হামলা।
বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি হামিদুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে কনভেনশনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হক। বক্তব্য দেন ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, সাংসদ বেগম হাজেরা খাতুন, শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের ওয়াজেদুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের রাজেকুজ্জামান রতন প্রমুখ।


