যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর কাসেম আলী প্রাণভিক্ষা না চাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়ায় তার ফাঁসি কার্যকর করতে এখন কেবল সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।
মীর কাসেম আলীকে কখন, কোথায় ফাঁসি দেয়া হবে, সে বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা শনিবার সকাল পর্যন্ত আসেনি। তাবে কাশিমপুর কারাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব প্রস্তুতিই নিয়ে রেখেছে তারা। এখন নির্দেশনা পেলে বাস্তবায়ন করা হবে। কাসেম আলীর সাথে শেষ সাক্ষাতের বিষয়ে এরই মধ্যে পরিবারের কাছে তালিকা চেয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক বলেন, “সরকারি আদেশ বাস্তাবায়নে কারা কর্তৃপক্ষ সব সময়ই প্রস্তুত আছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ীই ফাঁসি কার্যকর করা হবে।”
কাশিমপুরে কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হলে গাজীপুরের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাহেনুল ইসলামের কাছেও সরকারের নির্বাহী আদেশ আসবে। শুক্রবার রাতে তেমন কোনো নির্দেশনা পাননি বলে জানিয়েছেন তিনি।
কারা বিধি ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কাসেমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তার সঙ্গে শেষবার দেখা করতে দেওয়া হবে পরিবারের সদস্যদের।
এ কারাগারের জেলার নাশির আহেমদ জানান, মীর কাসেম আলীর সিদ্ধান্তের কথা তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী তারা পদক্ষেপ নেবেন।
কারাগার ঘিরে নিরাপত্তা
মীর কাসেমের সিদ্ধান্ত জানার পর শুক্রবার বিকাল থেকেই হাজার হাজার উৎসুক জনতা ভিড় করতে শুরু করেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার কমপ্লেক্সের বাইরে। সেই সঙ্গে বাড়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের উপস্থিতি।
এরই মধ্যে কারাগারের প্রধান ফটক থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সংযোগ সড়ক এলাকা পর্যন্ত র্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়। সন্ধ্যার পর আশপাশের এলাকায় দোকানপাটও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ভিড়ের মধ্যে ‘কোনো অঘটন যাতে না ঘটে’ সেজন্যই তাদের এ নিরাপত্তা।
“ফাঁসি কোথায় হবে তা কারা কর্তৃপক্ষের বিষয়। যেহেতু আসামি এ কারাগারে আছেন, এখানে নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। পরিস্থিতির সুযোগে কোনো নাশকতা বা কোনো অঘটন যেন না ঘটে, সেজন্য আমারা সিকিউরিটি বাড়িয়েছি।”
শুক্রবার রাত ৮টার দিকে একটি জলকামান নিয়ে পুলিশের একটি দলকে কারাগারের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
পুলিশ সুপার বলেন, “কাশিমপুর কারাগারে চারটি জেলখানা আছে। এখানে ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার আসামি, হত্যা মামলার আসামি, যুদ্ধাপরাধীসহ বড় বড় অপরাধীরা আছেন। সে কারণে আমরা এখানে নিরাপত্তা বেশি রাখি।
“এখন যেহেতু হাজার হাজার মানুষের ভিড়, সে কারণে আমরা আরও বেশি সিকিউরিটি দিচ্ছি। আমরা নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছি। আমরা টহল জোরদার করেছি, রাস্তায় রাস্তায় চেকপোস্ট বসিয়েছি।”
‘ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত’
কাশিমপুর কারাগারের জেলার নাশির আহমদ জানান, মীর কাসেম আলীকে রাখা হয়েছে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর ৪০ নম্বর কনডেম সেলে।
“তিনি সুস্থ আছেন। কারাগারের চিকিৎসকরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। তাকে স্বাভাবিক খাবার দেওয়া হচ্ছে।”
কারাগারের এক কর্মকর্তা বলেন, মীর কাসেম আলীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি তারা নিয়েছেন।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের দক্ষিণ পূর্ব কোণে ফাঁসির মঞ্চটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। মোম মাখানো দড়িতে আনুমানিক ওজনের বালির বস্তা বেঁধে দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক মহড়া।
জল্লাদ শাহজাহান, রাজু, পল্টুসহ কয়েকজনকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
এই জল্লাদ দল এর আগে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান, সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএরনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর করেছিল।


